Today is  
 
Untitled Document
শিরোনাম : ||   শহরের মাদক সম্রাজ্ঞী নাহিদা মদসহ গ্রেপ্তার      ||   করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ      ||   সৈকতে নির্জনতায় জেগে উঠছে প্রাণ-প্রকৃতি      ||   ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৮ জন করোনায় আক্রান্ত' ১ জনের মৃত্যু      ||   ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট প্লাস জবাবদিহিতামূলক      ||   তাজিকিস্তানে করোনা নেই, তাই ফুটবল খেলা শুরু      ||   করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্যাকেজ ঘোষনা      ||   করোনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চার কর্মপরিকল্পনা      ||   দেশে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু      ||   চকরিয়ায় করোনা সচেতনতা মানছেনা জনতা, চলছে বেচাকেনা      ||   চট্টগ্রামে হার্টলাইনে যাচ্ছে প্রশাসন: কাজ করছে ১০ টি মোবাইল টিম      ||   করোনায় সাবার শুটিং-ডাবিং সব বন্ধ      ||   প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলীর কার্যক্রম শুরু ছুটির পর      ||   জামাতার করোনা শনাক্ত:টেকনাফে ১৫ বাড়ি-দোকান লকডাউন      ||   সেন্টমার্টিনকে নিরাপদ রাখতে কাজ করছে নৌবাহিনী     
প্রকাশ: 2020-04-03     মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ধর্ম

দেশে বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সব ধরনের জমায়েত বন্ধের পাশাপাশি মসজিদগুলোতে জুমা ও জামাতে সম্মানিত মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিজ্ঞ আলেমরা। ‘মসজিদ বন্ধ থাকবে না তবে সুরক্ষা পদ্ধতি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিরা মসজিদে যাবে না’অনেকেই আলেমদের এই আহ্বানের ব্যাখ্যা চাইছেন। মূলত মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত রাখার উদ্দেশ্য হলো, এমন পরিস্থিতিতে যার জন্য মসজিদে আসা উচিত নয় তিনি আসবেন না। তেমনিভাবে যার জন্য না আসার অবকাশ রয়েছে তিনিও আসবেন না।

এমন পরিস্থিতিতে যাদের জন্য মসজিদে আসা উচিত নয় তারা হলেন ক. যারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। খ. যারা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত রয়েছেন, কিন্তু আজিমত (শরিয়তের স্বাভাবিক সময়ের বিধান) অবলম্বনের জন্য মসজিদে উপস্থিত হয়ে থাকেন তাদেরও এমন পরিস্থিতিতে মসজিদে আসা উচিত নয়। গ. যারা সর্দি-কাশি ও ঠাণ্ডা-জ্বরে আক্রান্ত তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগে মসজিদে কোনোভাবেই আসবেন না। ঘ. ষাট বা তদূর্ধ্ব মুরব্বিদের মসজিদে না আসা উচিত। ঙ. বিশেষত যেসব মুরব্বি কোনো রোগে আক্রান্ত রয়েছেন তারা একেবারেই মসজিদে আসবেন না। চ. এ পরিস্থিতিতে নাবালেগ শিশুরা, বিশেষ করে যারা খুব ছোট তারা মসজিদে একেবারেই আসবে না। ছ. যারা এমন কোনো অঞ্চল বা পরিবেশ থেকে এসেছেন যেখানে এই মহামারি বিস্তার লাভ করেছে, তারাও এমন পরিস্থিতিতে মসজিদে একেবারে আসবেন না। জ. কোনো বিশেষ এলাকা যেমন কোনো বাড়ি, টাওয়ার, পাড়া, মহল্লা ইত্যাদির ব্যাপারে যদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কারণে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয় তাহলে এমন লোকেরাও মসজিদে আসবে না।

উল্লিখিত মুসল্লিরা ঘরে নামাজ আদায় করবেন। মসজিদে উপস্থিত হতে না পারার কারণে অন্তরে আক্ষেপ পোষণ করবেন। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহতায়ালা আপন মর্যাদা মোতাবেক তাদের সওয়াব দান করবেন।

ঝ. কোনো কোনো মসজিদে নারী মুসল্লিরাও উপস্থিত হয়ে থাকেন। এ প্রচলন এমনিতেই সংশোধনযোগ্য। তথাপি এ পরিস্থিতিতে মসজিদে তাদের উপস্থিত হওয়ার প্রশ্ন আসে না।

অসুস্থ না হয়েও এ অবস্থায় যাদের মসজিদে না আসার অনুমতি রয়েছে তারা হলেন ক. যারা কারও শুশ্রƒষায় আছেন। খ. আতঙ্কের কারণে যাকে তার বাবা-মা অথবা স্ত্রী কিংবা ছেলেসন্তানরা বাইরে বের হতে বাধা দিচ্ছে।

গ. আতঙ্কের কারণে যাকে তার প্রতিবেশী বা একই ভবনের বাসিন্দারা বাধা দিচ্ছে।

ঘ. যিনি নিজে আক্রান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা বোধ করার দরুন মসজিদে উপস্থিত হওয়ার সাহস করতে পারছেন না।

এই মুসল্লিরা ছাড়া অন্যরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জামাতে উপস্থিত হবেন। তারপরও যাদের মধ্যে কোনো লক্ষণও নেই এবং পূর্বোক্ত দুই শ্রেণির আওতায়ও পড়েন না উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তাদের কেউ যদি (পরিবার ও সমাজের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে) মসজিদে না আসেন, তাহলে আশা করা যায় তাদেরও গুনাহ হবে না।

এই পরিস্থিতিতে যাদের জন্য জামাতে উপস্থিত হওয়া সংগত নয়, তারা জুমাতেও উপস্থিত হবেন না। আর যাদের জন্য জামাতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি রয়েছে তাদের জন্য জুমাতেও উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি রয়েছে। আর এই সময় এ রুখসত (ছাড়) গ্রহণ করায় সওয়াবও বেশি। হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ এটাও পছন্দ করেন তার দেওয়া রুখসত বান্দা গ্রহণ করবে।’

সুতরাং তারা ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করবে। আর জুমার দিনের অন্যান্য আমলের প্রতি মনোযোগী হবে। যেমন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা, বেশি বেশি দরুদ পাঠ ইত্যাদি।

‘সুরক্ষা নিশ্চিত না হয়ে মসজিদে গমন করবেন না’এ কথারও অর্থ পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এর অর্থ হলো, প্রথমে এটা জেনে নেবেন এ মুহূর্তে তার জন্য জামাতে উপস্থিত হওয়া উচিত কি না? না এ মুহূর্তে তার জন্য ঘরে নামাজ আদায় করা উত্তম? যদি সে উল্লিখিত মানুষদের অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে মসজিদে আসার আগে স্বাস্থ্য বিভাগ ও আলেমদের পক্ষ থেকে বলা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবশ্যই অবলম্বন করবেন। তা হলো ক. ঘর থেকে অজু করে আসবে, খ. সুন্নত নামাজ ঘরে পড়ে নেবেন, গ. মাস্ক ব্যবহার করবেন; বরং শরীরের উপরিভাগ রুমাল ইত্যাদি দিয়ে আবৃত করে নিলে আরও ভালো, ঘ. মসজিদের ফ্লোরে বিছানোর জন্য এমন কোনো কাপড় নিয়ে যাবেন, যাতে মিহি বালি না উড়ে, ঙ. মসজিদের সম্মুখে যদি হাত ধোয়ার কিংবা স্প্রের ব্যবস্থা থাকে তাহলে তা-ও গ্রহণ করবেন, চ. জামাত শেষ হওয়ার পর সেখানে বিলম্ব করবেন না। ফরজপরবর্তী সুন্নতগুলো ও অজিফা-জিকির ঘরে এসে আদায় করবেন, ছ. বর্তমানে মুসাফা-কোলাকুলি থেকেও বিরত থাকবেন।

অন্যদিকে মসজিদ কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে যেসব নির্দেশনা রয়েছে তারা সে ব্যাপারে যতœবান হবেন। বিশেষত মসজিদগুলোর পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দেবেন।

জুমার ব্যাপারে মুরব্বিদের বক্তব্য হলো, খুতবা ও নামাজ সংক্ষিপ্ত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলা বয়ান একেবারে না করলেও কোনো সমস্যা নেই। অবশ্য চার-পাঁচ মিনিটে যদি এ পরিস্থিতিতে তাওবা, তাওয়াক্কুল এবং সতর্কতা অবলম্বনের ব্যাপারে দুই-চার কথা বলে দেওয়া হয় তাহলে ভালো।

অনেক মুসল্লি মসজিদে আসেন, তবে কাতারে ফাঁকা ফাঁকা হয়ে দাঁড়ান। কাতারে মিলে মিলে দাঁড়ানো সুন্নত। ফাঁক রেখে দাঁড়ানো মাকরুহ। কিন্তু এমন পরিস্থিতির কারণে এভাবে দাঁড়ানোর অবকাশ থাকতে পারে। মাসিক আল কাউসারের ওয়েবসাইটে ২৭ মার্চ ২০২০ প্রকাশিত সাক্ষাৎকার অবলম্বনে নিহার মামদুহ খসরু।


ধর্ম
সুরক্ষা নিশ্চিত করে জুমার নামাজ

হজের তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে!

মসজিদে জামায়াত সংক্ষিপ্ত করতে ইফা’র অনুরোধ

মহামারীতে ইসলামের নির্দেশনা কি?

রাত ১০টার পর আজান কেন?

পবিত্র শবে বরাত আগামী ৯ এপ্রিল

হজযাত্রীদের নিবন্ধন ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি

আজ পবিত্র শবে মেরাজ

করোনা নিয়ে চিন্তাবিদদের দ্বন্দ্ব ও ইসলামের শিক্ষা

করোনা থেকে বাঁচতে লাখো মুসল্লির দোয়া

 

উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের, সম্পাদক : বিশ্বজিত সেন, প্রকাশক: আবদুল আজিজ
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন(২য় তলা), শহীদ সরণি(সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩, ইমেইল: news.coxsbazarvoice@gmail.com


ইমেইল :

An Online News Portal Of Bangladesh

  Copyright © Coxsbazarvoice 2019-2020, Developde by JM IT SOLUTION