Today is  
 
Untitled Document
শিরোনাম : ||   শহরের মাদক সম্রাজ্ঞী নাহিদা মদসহ গ্রেপ্তার      ||   করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ      ||   সৈকতে নির্জনতায় জেগে উঠছে প্রাণ-প্রকৃতি      ||   ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৮ জন করোনায় আক্রান্ত' ১ জনের মৃত্যু      ||   ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট প্লাস জবাবদিহিতামূলক      ||   তাজিকিস্তানে করোনা নেই, তাই ফুটবল খেলা শুরু      ||   করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্যাকেজ ঘোষনা      ||   করোনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চার কর্মপরিকল্পনা      ||   দেশে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু      ||   চকরিয়ায় করোনা সচেতনতা মানছেনা জনতা, চলছে বেচাকেনা      ||   চট্টগ্রামে হার্টলাইনে যাচ্ছে প্রশাসন: কাজ করছে ১০ টি মোবাইল টিম      ||   করোনায় সাবার শুটিং-ডাবিং সব বন্ধ      ||   প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলীর কার্যক্রম শুরু ছুটির পর      ||   জামাতার করোনা শনাক্ত:টেকনাফে ১৫ বাড়ি-দোকান লকডাউন      ||   সেন্টমার্টিনকে নিরাপদ রাখতে কাজ করছে নৌবাহিনী     
প্রকাশ: 2020-04-05     জিকির উল্লাহ জিকু পর্যটন

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত যেন ফিরে পাচ্ছে তার নিজস্ব প্রাণ। করোনায় সৈকত ভ্রমন নিষিদ্ধ থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে সমুদ্র সৈকত এখন সুনশান নীরবতা। মানবহীন সমুদ্র সৈকতের এই নির্জনতার সুযোগে আবার জেগে ওঠছে সৈকত রাজ্যে প্রকৃতি। বালিয়াড়িতে পাখনা মেলে বিচরণ করছে লাল কাঁকড়ার দল, ডালপালা মেলতে শুরু করেছে সাগর লতা। লোকালয়ের কাছে এসেই ডিগবাজিতে মেতেছে একদল ডলফিন। সমুদ্র সৈকতের প্রকৃতিতে এমন পরিবর্তনকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন পরিবেশবিদেরা। 

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। প্রতিদিন লাখো মানুষের পদচারণায় সৈকতের প্রকৃতি যেন ন্যুয়ে পড়েছিল। পর্যটনের অজুহাতে প্রকৃতি ধ্বংস ও পরিবেশ বিনষ্ট করে একের পর এক দালাল নির্মাণসহ নানা কারণে সৈকতের জীববৈচিত্র যেন মরতে বসেছে। ঠিক এমন সময়ে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমন নিষিদ্ধ করে সরকার। একারণে সৈকতে নেমে আছে সুনশান নীরবতা। এই নীরবতার সুযোগে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সৈকতজুড়ে গোলাপী-অতিবেগুণী রঙের ফুলেভরা সাগরলতা মেলতে শুরু করেছে। যা এক দশক আগেও দেখা যেতো এসব প্রকৃতি। এসব প্রকৃতি কক্সবাজার ভ্রমনে আসা পর্যটকদের কাছেও ছিল অন্য রকম আকর্ষণ। সৈকত জুড়ে লাল কাঁকড়ার দৌড়ঝাপ আর কচ্ছপের বিচরণই জানান দেয় সেই চিরচেনা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

কক্সবাজারের সাংবাদিক আহমদ গিয়াস কক্সবাজার ভয়েস’কে জানান, ‘পরিবেশবিদ্যায় বালিয়াড়িকে সমুদ্রসৈকতের রক্ষাকবচ, আর সাগরলতাকে বালিয়াড়ি তৈরির কারিগর বলা হয়। সাগরে ঝড়-তুফান বা ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ঠেকিয়ে উপকূলকে রক্ষা করে বালিয়াড়ি। আর সমুদ্রসৈকতে মাটির ক্ষয়রোধ ও শুকনো উড়ন্ত বালুরাশিকে আটকে বড় বড় বালির পাহাড় বা বালিয়াড়ি তৈরি করে সাগরলতা’। 

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু কক্সবাজার ভয়েস’কে বলেন, ‘সৈকতে নির্জনতার সুযোগে শুধু সাগরলতা নয়, দলে দলে ফিরতে শুরু করেছে লাল কাঁকড়া। কিছুদিন আগেও ডলফিনের একটিদল সাগরতীরের খুব কাছাকাছি এসে জানান দিয়েছে প্রকৃতির নির্জনতাকে। ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাঁকড়ারদল খেলা করছে তাদের মনে মহিমায়। তাই, প্রকৃতিকে প্রকৃতির মতো করে বেড়ে উঠার সুযোগ করে দিতে হবে। এতে করেই সাগরের সৌন্দর্য্য আরো বৃদ্ধি পাবে’।

সাংবাদিক, ‘গবেষক, পরিবেশবিদ ও কক্সবাজার ভয়েস ডট কম-এর সম্পাদক বিশ্বজিত সেন বাঞ্চু বলেন, মাত্র এক দশক আগেও কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতজুড়ে গোলাপি-অতিবেগুনি রঙের ফুলে ভরা সৈকতে এক অন্য রকমের সৌন্দর্যময় পরিবেশ ছিল। কিন্তু সৈকতে মানুষের অবাধ বিচরণের কারণে সেই সাগরলতা এখন হারিয়ে গেছে। পাশাপাশি নষ্ট হয়ে গেছে বালিয়াড়িও। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রসংশনীয়’। 

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বায়োলজিক্যাল ওশানোগ্রাফি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মুহাম্মদ শরীফ কক্সবাজার ভয়েস’কে বলেন, ‘সমুদ্র সৈকতের নুনা পানিতে বেঁচে থাকে অসংখ্য জলজ উদ্ভিদ। সাগরের তলদেশ ছাড়াও সমুদ্র সৈকতে গড়ে উঠে সৈকতে সৌন্দর্য্য করেছে এসব উদ্ভিদ। এরমধ্যে সাগর লতা অন্যতম। এছাড়াও বঙ্গোপসাগরে খুব কম সংখ্যক ডলফিন বসবাস করে আসছে। এরমধ্যে দুটি ডলফিন পরিবার কক্সবাজারের সোনাদিয়া ও মহেশখালীর কাছাকাছিতে অবস্থান করে আসছে। সাগরে মূলত তারা দল বেঁধে চলাফেরা করে। বর্তমানে চ্যানেলগুলোতে প্রতিনিয়ত তাদের দেখা মেলে। যেহেতু তারা নিরিবিলি পছন্দ করে, সেহেতু সাগরের জনমানবহীন নীরবতার সুযোগে মাঝেমাধ্যে সাগর তীরের কাছাকাছি চলে আসে’।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন কক্সবাজার ভয়েস’কে বলেন, ‘নতুন করে জেগে সাগরের প্রকৃতি দেখতে আমি গত শুক্রবার সৈকতে গিয়ে মুগ্ধ হয়েছি। সমদ্র্রসৈকতের বালিয়াড়ির উপর সাগরলতা দূর থেকে দেখতে অনেকটা সবুজ কার্পেটের মতো। আর সাগরলতা যে বালিয়াড়ি সৃষ্টি করে তা আজ প্রত্যক্ষভাবে দেখেছি এবং বিস্মিত হয়েছি। প্রকৃতিকে বাধাগ্রস্ত না করে নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হলে তারা যে কত বড় সেবা পরিবেশে দিতে পারে, সাগরলতা ইতোমধ্যে তা প্রমাণ করেছে’। তাই এসব কিছু বিবেচনা করে শহরের সমুদ্র সৈকতের দরিয়ানগর থেকে দক্ষিণে এক কিলোমিটার পর্যন্ত সৈকত এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে সাগরলতার বনায়ন করা হবে। মূলত সৈকতে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বালিয়াড়ির পেছনের অংশে সৃজন করা হবে নারকেল বাগানও’।

প্রসঙ্গ, সৈকতের পরিবেশগত পুনরুদ্ধারে সাগরলতার মতো দ্রাক্ষালতার বনায়নের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডা এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সৈকতের হ্যাস্টিং পয়েন্টসহ বিশ্বের বিভিন্ন সৈকতে বালিয়াড়ি সৃষ্টিতে সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দেখানো পথে সৈকতের মাটির ক্ষয়রোধ ও সংকটাপন্ন পরিবেশ পুনরুদ্ধারে বিশ্বের দেশে দেশে কাজে লাগানো হচ্ছে সাগরলতাকে। উন্নত বিশ্বের গবেষণালব্ধ ফলাফলে সাগরলতার মতো দ্রাক্ষালতা সৈকত অঞ্চলে পরিবেশগত পুনরুদ্ধার ও মাটির ক্ষয় রোধের জন্য একটি ভালো প্রজাতি বলে প্রমাণিত হয়েছে। 

ভয়েস/আআ


পর্যটন
সৈকতে নির্জনতায় জেগে উঠছে প্রাণ-প্রকৃতি

সৈকতে বালুচরকে সংরক্ষিত করতে সাগরলতা চাষের উদ্যোগ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নির্জনতায় খেলা করছে জীববৈচিত্র

সৈকতে ডলফিন হঠাৎ নিরুদ্দেশ!

ঘুরে আসুন প্রকৃতির অপার সম্ভাবনাময় কাট্টলি সমুদ্র সৈকত

করোনা: কক্সবাজার পর্যটন খাতে ৩৫ হাজার শ্রমিক বেকার

নিবন্ধনের আওতায় আসছে রিসোর্ট

তারকামানের হোটেলে পর্যটক হ্রাসের আশংকা

করোনা প্রতিরোধে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

বেড়াতে এসে এক পর্যটকের মৃত্যু

 

উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের, সম্পাদক : বিশ্বজিত সেন, প্রকাশক: আবদুল আজিজ
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন(২য় তলা), শহীদ সরণি(সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩, ইমেইল: news.coxsbazarvoice@gmail.com


ইমেইল :

An Online News Portal Of Bangladesh

  Copyright © Coxsbazarvoice 2019-2020, Developde by JM IT SOLUTION