Today is  
 
Untitled Document
শিরোনাম : ||   এবার চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশের উপর বিধি-নিষেধ      ||   করোনার পরীক্ষামূলক ওষুধ তৈরিও হচ্ছে দেশে      ||   রমজানে অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত      ||   এ্যাম্বুলেন্স করে পাচারের সময় ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩      ||   উখিয়ায় লোক সমাগম বাড়ছে : মেরিন ড্রাইভে যান চলাচল বন্ধ      ||   করোনায় আরো ৪ জনের মৃত্যু:নতুন করে আক্রান্ত ২৯      ||   ইতালী ও ফ্রেন্সে করোনায় কমে আসছে মৃত্যুর হার      ||   টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত      ||   শহরের মাদক সম্রাজ্ঞী নাহিদা মদসহ গ্রেপ্তার      ||   করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ      ||   সৈকতে নির্জনতায় জেগে উঠছে প্রাণ-প্রকৃতি      ||   ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৮ জন করোনায় আক্রান্ত' ১ জনের মৃত্যু      ||   ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট প্লাস জবাবদিহিতামূলক      ||   তাজিকিস্তানে করোনা নেই, তাই ফুটবল খেলা শুরু      ||   করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্যাকেজ ঘোষনা     
করোনার অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজারে গলাকাটা বাণিজ্য
প্রকাশ: 2020-03-21 11:57 AM   বিশেষ প্রতিবেদক এক্সক্লুসিভ

করোনা ভাইরাসে জনসচেতনতা নয়, বরং অগ্রিম নিত্যপণ্য কিনে ঘরে মজুদ করতে বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্বিগুন বাড়িয়ে দিয়েছে পণ্যদ্রব্য। ক্ষেত্রে বিশেষে তিনগুন পর্যন্ত মুল্য নিচ্ছে এসব ব্যবসায়ীরা। গত দুইদিন ধরে কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন হাটবাজার গুলোতে গলাকাটা ব্যবসা শুরু করলেও যেন দেখার কেউ নেই। অবশ্য, জেলা প্রশাসন বলছে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর কারণে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা ও অর্থদন্ড দেয়া হচ্ছে।

সারাবিশ্ব যখন প্রাণঘাতক করোনা ভাইরাসে স্তব্ধ, ঠিক এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা কক্সবাজারে শুরু করছে গলাকাটা বাণিজ্য। মানুষের অগ্রিম চাহিদাকে পুজি করে এসব ব্যবসায়ী এসব অবৈধ কারবার করছে কোন নিয়ম নীতি ছাড়াই। অথচ বাজারে নেই কোন পণ্যদ্রব্যের ঘাটতি। করোনা ভাইরাসের আগামী সপ্তাহ বা এক মাস ধরে বাসা/বাড়ি থেকে বের হওয়া যাবে না এবং দোকানপাঠ বন্ধ হয়ে যাবে এমন আশংকায় হাটবাজার গুলোতে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এসব আগাম ক্রয়কে পুজি করে কক্সবাজার শহরের বড় বাজার, বাহারছড়া বাজার, কানাইয়া বাজার, রুমালিয়ারছড়া বাজার, কালুর দোকান সহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা বাজারের অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুন। একইভাবে জেলার উপজেলা সমুহে অবস্থিত হাট-বাজার গুলোতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। 

পণ্যের ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার নেপথ্যে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজি, বাজার মনিটরিংয়ে শিথিলতা এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতাকে দায়ী করছে সচেতন শিক্ষিত সমাজ। তারা বলছেন, হাট-বাজারে চাল, পিয়াজ, চিনি, ডাল, মসলাজাতীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারণে বৃদ্ধি করে দিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের চলমান ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা রোধ করা না গেলে আগামী রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ কষ্টসাধ্য হবে। এর ফলে ভোক্তা সাধারণ দুর্ভোগের শিকার হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে।

জানাগেছে, সম্প্রতি বাজারে অস্থিতিশীল সৃষ্টি হওয়া পেয়াজ ও কিছু দ্রব্যমুল্যের দাম আকাশচুম্বি হলেও কিছুদিন ধরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছিল। কিন্তু, করোনার কারণে এখন প্রতিকেজি পেয়াজ দাম বেড়ে পুনরায় দ্বিগুন হয়েছে। একইভাবে দাম বাড়িয়েছে চালে দামও। কক্সবাজার শহরে প্রতিকেজি চালের দাম বেড়েছে ৬ থেকে ৮টাকা। এক নাম্বার মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা, নাজির ৫৪-৫৫ টাকা কেজিতে এবং লতা চাল ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বস্তা ১ থেকে ৩শ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে করোনার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি। শহরের বড় বাজারের একটি মুনাফাভোগী চক্র এসব করে চলছে প্রতিনিয়ত। 

ক্রেতারা বলছেন, শুধু চাল নয়, বেড়েছে ডালের দামও। একইভাবে বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। প্রতি ৫ লিটার রূপচাঁদা ৫৩০ টাকা ও তীর ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা বাজারে প্রতি কেজি সয়াবিন তেল ১১০-১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০টাকা এবং ক্ষেত্রে বিশেষে ১০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের পাশাপাশি প্রায় সকল নিত্যপণ্যের দাম কেজি প্রতি ১০-১৫ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সুযোগ পেলেই মুনাফালোভী ক্রেতারা দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কক্সবাজার শহরের বড় বাজার, বাহারছড়া বাজার, কানাইয়াবাজার, কালুর দোকান, রুমালিয়ারছড়া বাজার, উপজেলা গেইট বাজার, লিংকরোড বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে বেড়েই চলছে নিত্যপণ্যের দাম। একইভাবে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন বাজারে খাদ্য সংকট স্থিতিশীল থাকলেও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বাজারে টমেটো কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, আলু দেশি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, কচু ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে শাকসবজির দামও বেড়েছে অনেক। 

কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার এলাকার মুদির দোকান ও পাইকারি ব্যবসায়ী স্বজল কান্তি ধর ‘কক্সবাজার ভয়েস’কে বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে তেমন কোনও সংকট এখনও দেখা যাচ্ছে না। তবে সাধারণ মানুষের অগ্রীম খাদ্য দ্রব্য ক্রয় করার কারণে পাইকারি বাজারে মুল্য বৃদ্ধি করে দিয়েছে।’

ফরিদ আলম নামের একজন আইনজীবী ‘কক্সবাজার ভয়েস’কে জানিয়েছেন, ‘করোনা ভাইরাসে অগ্রীম বাজার সদাই করার কারণে হঠাৎ বেড়েছে পণ্যের দাম। বর্তমানে বাজার ব্যবস্থার কোন ধরনের তদারকি নেই বললে চলে। যে যার মতো করে বাড়িয়ে দিয়েছে নিত্যপণ্যের দাম। এতে করে গত দুইদিনে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে’।

শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা পারভেজ আলম ‘কক্সবাজার ভয়েস’কে বলেন, ‘পণ্য ক্রয় করা এখন কষ্টসাধ্য ব্যাপার। একজোড়া লেবু ৪০টাকা ক্রয় করার উদাহরণ দিয়ে তিনি আরো বলেন, সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এসব ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে করে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিতে এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এসব করছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মোহা: শাজাহান আলী ‘কক্সবাজার ভয়েস’কে জানিয়েছেন, ‘শুধু কক্সবাজার শহর নয়, জেলার যেখানেই পণ্যের দাম বাড়ানো খবর পাচ্ছি। যেখানে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে, সেখানেই ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা ও দন্ড দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও করোনার কারণে সামনে দাম বৃদ্ধি পাবে এমন ভয়ে কিছু সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত পণ্য কিনছে। আমরা তাদের আতংকিত না হয়ে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় না করতে অনুরোধ করছি’।

শাজাহান আলী ‘কক্সবাজার ভয়েস’কে আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিভিন্ন হাট বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী আমরা অভিযান পরিচালনা করি, তখন পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখে। যখন অভিযান শেষ করে চলে আসি, তখন ফের বাড়িয়ে দেয়। আসলে এভাবে চলতে দেয়া যায় না। আমাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদেরকেও সচেতন হতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে’।

চলমান নিত্যপণ্যেও দাম স্বাভাবিক রাখতে না পারলে আগামী রমজান মাসে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করবে এমনটি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভয়েস/আআ

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে 10 বার
এক্সক্লুসিভ
করোনায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেল প্রকল্পের কাজ নিয়ে শংকা

শহীদ ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদের স্মৃতি নিভৃতে কাঁদে

সৈকতের নির্জনতায় রাজত্ব চলছে কাছিম ও জীববৈচিত্রের

চকরিয়া-ফাইতংয়ের ৩৫টি ইটভাটায় শিশুসহ করোনা ঝুঁকিতে ১০ হাজার শ্রমিক

মহেশখালীর মিষ্টি পানের খ্যাতি দেশব্যাপী

কক্সবাজারে ২৫৬ বিদেশীকে খুঁজছে পুলিশ

করোনার অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজারে গলাকাটা বাণিজ্য

সাদা সোনার উৎপাদনকারী চাষীরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আদলে শোষিত

‘কক্সবাজার দেশের সবচেয়ে বিমান বন্দর হবে’

শঙ্কা-আশংকায় হুমকির মুখে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্প

এবার চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশের উপর বিধি-নিষেধ
করোনার পরীক্ষামূলক ওষুধ তৈরিও হচ্ছে দেশে
রমজানে অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত
এ্যাম্বুলেন্স করে পাচারের সময় ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩
উখিয়ায় লোক সমাগম বাড়ছে : মেরিন ড্রাইভে যান চলাচল বন্ধ
করোনায় আরো ৪ জনের মৃত্যু:নতুন করে আক্রান্ত ২৯
ইতালী ও ফ্রেন্সে করোনায় কমে আসছে মৃত্যুর হার
টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত
শহরের মাদক সম্রাজ্ঞী নাহিদা মদসহ গ্রেপ্তার
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
সৈকতে নির্জনতায় জেগে উঠছে প্রাণ-প্রকৃতি
২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৮ জন করোনায় আক্রান্ত' ১ জনের মৃত্যু
ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট প্লাস জবাবদিহিতামূলক
তাজিকিস্তানে করোনা নেই, তাই ফুটবল খেলা শুরু
করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্যাকেজ ঘোষনা
করোনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চার কর্মপরিকল্পনা
 

উপদেষ্টা সম্পাদক : আবু তাহের, সম্পাদক : বিশ্বজিত সেন, প্রকাশক: আবদুল আজিজ
অফিস: কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন(২য় তলা), শহীদ সরণি(সার্কিট হাউজ রোড), কক্সবাজার।
ফোন: ০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩, ইমেইল: news.coxsbazarvoice@gmail.com


ইমেইল :

An Online News Portal Of Bangladesh

About Coxsbazar Voice
Advertisement
Contact
Web Mail
Privacy Policy
Terms & Conditions
কক্সবাজার ভয়েস পত্রিকার কোন সংবাদ,লেখা,ছবি বা কোন তথ্য পূর্ব অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
All rights reserved © 2020 COXSBAZAR VOICE Developed by : JM IT SOLUTION