শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

অক্টোবরে পূর্ণতা পাচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের কাজ শেষ হবে জুনে। রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হবে আগামী অক্টোবরে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণের ৪২ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল (যাত্রী প্রান্তিক ভবন) নির্মাণ কাজও ৮২ শতাংশ এগিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া, আকাশপথে কক্সবাজার যেতে শুধু দিনে অপেক্ষার সময় শেষ হতে চলেছে। এখন রাতেও ফ্লাইট নামবে সাগরঘেঁষা রানওয়েতে। একইভাবে সারা দিন কাটিয়ে রাতে ফেরা যাবে উড়োজাহাজে। বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন নগরীতে অবকাঠামোর সংকটে এখন পর্যন্ত সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামা করতে পারে। তবে সংকট আর থাকছে না। রাতেও ফ্লাইট ওঠানামার সব প্রস্তুতি শেষ। যে কোনোদিন ফ্লাইট শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। একদিকে চলছে সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ, অপরদিকে চলছে আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণের কাজ। সমুদ্র তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যস্ত শ্রমিকরা। চারপাশে রাস্তাও নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকার বেশি। আর আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে ২৭৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় সরকার।

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউনুস ভুঁইয়া বলেন, ‘সমুদ্রতীরবর্তী জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে সরকার বিমানবন্দটির আরো উন্নয়ন ঘটানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের আওতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব থেকে রানওয়ের সুরক্ষার জন্য সমুদ্রতীরে রক্ষাপ্রদ বাঁধ নির্মাণ এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে চারপাশে রাস্তাও নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রগর্ভে আরও প্রায় ২ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইট স্থাপনসহ বিদ্যমান রানওয়েতে ক্যাট-২ এজিএল সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নতুন ১৭০০ ফুটসহ এই বিমানবন্দরের রানওয়ে হবে ১০ হাজার ৭০০ ফুট, তাই দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে সমৃদ্ধ বিমানবন্দর হবে কক্সবাজার। তখন সমুদ্র ছুঁয়ে বি-৭৭৭-৩০০ ইআর, বি-৭৪৭-৪০০ এর মতো বড় আকারের বিমানগুলো এই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে।’

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণের কাজও। এ প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ১৪ হাজার বর্গমিটার আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন, একটি বোর্ডিং ব্রিজ স্থাপন, ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটার সুপরিসর বিমান পার্কিং অ্যাপ্রন ও ১৯০টি অভ্যন্তরীণ/ আন্তর্জাতিক যাত্রী এবং ৩৫টি ভিআইপি ভেহিক্যাল পার্কিং বিশিষ্ট কারপার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ৮২ শতাংশ কাজ।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে কক্সবাজার বিমাবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০টি যাত্রীবাহী বিমান ও ৬-৮টি কার্গো বিমান উঠানামা করছে। রাতে বিমান উঠানামার জন্যও প্রায় প্রস্তুত। সমুদ্রগর্ভে আরও লাইটিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলছে।’

পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই বিমানবন্দর শুধু পর্যটন নয়, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা খুবই উজ্জীবিত। রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। একই সাথে আন্তজার্তিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ২০২৩ সালের জুন মাসে চালু হবে-এমন লক্ষ্য আছে। বিমানবন্দর এবং রেলপথের কাজ যেভাবে এগাচ্ছে, সেভাবে যদি আমরা এগোতে পারি, তাহলে কক্সবাজার সত্যিকার অর্থে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন স্থান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে জিডিপিতেও কক্সবাজার জেলা অবদান রাখবে।’

২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রানওয়েতে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ জাতীয় বিমান অবতরণের মাধ্যমে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিভিল, ন্যাভ-এইড ও এজিএল কাজের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পের আওতায় ২৯০ হেক্টর ভূমি বন্দোবস্ত এবং ৮ দশমিক ৩৭ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুটে এবং চওড়া ১০০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে উন্নীত করা হয়। এ ছাড়া সুপরিসর বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান রানওয়ের পিসিএন ১৭ হতে ৯০ এ উন্নীতকরণসহ আইএলএস, ডিডিওআর, ক্যাট-১ এজিএল লাইট স্থাপন, নিরাপত্তা সীমানা প্রাচীর ও ড্রেনেজ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ঠিকাদারি কাজের ব্যয় দাঁড়ায় ৬৫৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এরপর ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমুদ্রগর্ভে আরও ১ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে বর্ধিতকরণের লক্ষ্যে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণ’ প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে পূর্ণ লোডে সুপরিসর বিমান তথা বি-৭৭৭-৩০০ ইআর, বি-৭৪৭-৪০০ জাতীয় বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ নিশ্চিত হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি জেভি প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্নাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর তথা রিজিওনাল হাব হিসেবে দিতে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন (২য় পর্যায়)’ নামে একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাত সম্পন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com