শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:০০ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

অধিকৃত তিব্বতে গণহারে ডিএনএ টেস্ট করছে চীন

চীন,ফাইল ছবি

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

অধিকৃত তিব্বতে ‘জৈবিক তথ্যভান্ডার’ তৈরির জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর গণহারে ডিএনএ পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।

তিব্বত প্রেসের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এ জৈব তথ্যভান্ডার তৈরি করছে চীনের কমিউনিস্ট সরকার। তিব্বত, পূর্ব তুর্কিস্তান এবং দক্ষিণ মঙ্গোলিয়ার চীন অধিকৃত এলাকাগুলোর বাসিন্দারাও এর শিকার হচ্ছেন।

চীন এবারই প্রথম ডিএনএ সংগ্রহ করছে না। দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফরেনসিক ডিএনএ তথ্যভান্ডার রয়েছে। যেখানে কমপক্ষে ১০ কোটির বেশি মানুষের তথ্য রয়েছে।
তিব্বতের পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, যেসব তিব্বতি চীনের দুঃশাসনের বিরোধিতা করেন, সেই বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ডিএনএ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তবে চীন এবারই প্রথম ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করছে না। দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফরেনসিক ডিএনএ তথ্যভান্ডার রয়েছে। যেখানে কমপক্ষে ১০ কোটির বেশি মানুষের তথ্য রয়েছে।

এর আগে চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জিনজিয়াংয়ে আক্রান্তদের লোকেশন ট্রাস করার নামে হাজারো উইঘুর মুসলমানের ওপর এ জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। পরে তাদের দমনে সেই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে বেইজিং।

জিনজিয়াংয়ের ওই ঘটনা বিশ্লেষণ করে তাই পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তিব্বতিদের সম্মতি ছাড়া এই গণ ডিএনএ সংগ্রহ অভিযানের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো চীন সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট তিব্বতীয়দের আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া।

তবে জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যে শুধু উইঘুর বা তিব্বতিদেরই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তা নয়। বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, চীনের সাধারণ নাগরিক, এমনকি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের ওপরও এই নজরদারি চালানো হচ্ছে।

১৯৫১ সাল থেকে তিব্বতের ওপর কঠোর দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে চীন। শুধু তাই নয়, তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের শান্তিপূর্ণ প্রকাশকে সীমিত করতে বাধ্য করা হয়েছে৷

সেইসঙ্গে নিপীড়ন-নির্যাতন, কারাদণ্ড এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হচ্ছে অঞ্চলটির মুক্তিকামী মানুষদের। তবে জোরপূর্বক তিব্বত দখল করে নিলেও এই দখলকে বৈধতা দিতে একে অঞ্চলটির জন্য ‘শান্তিপূর্ণ মুক্তি’ বলে অভিহিত করে বেইজিং।

এ ছাড়া তিব্বতের বর্তমান দালাই লামা, যিনি ভারতে নির্বাসিত, তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে ঘোষণা করেছে বেইজিং। এ বিষয়ে দালাই লামা বলেন, ‘চীনের অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস করে, আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী নই। আমি তিব্বতে স্বাধীন রাষ্ট্র গড়তে চাই না; বরং স্বায়ত্তশাসন এবং ধর্মীয় সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা চাই।’

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com