মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

অভাব-অনটনে করণীয়

এস এম আরিফুল কাদের:

দুনিয়ার বিপদসমূহের মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অন্যতম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আয় অনুপাতে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে হতাশাসহ নানাবিধ চিন্তা ঘিরে ধরে। এ কারণে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিক অসুস্থতা তীব্র আকার ধারণ করে। তা থেকে বাঁচতে ইসলামি অনুশাসনের বিকল্প নেই। যার নমুনা প্রাক-ইসলাম থেকে পাাওয়া যায়। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম আমাদের শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণাঙ্গভাবে হাতে কলমে শিখিয়েছেন। এর কয়েকটি পদ্ধতি হলো

অপচয় রোধ : বর্তমান বিশ্বে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় একটি মহামারীর আকার ধারণ করেছে। খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানসহ সর্বক্ষেত্রে এমন পর্যায়ে অপচয় আমরা করছি, যা দিয়ে মানুষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। অপচয় প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআন মজিদে সতর্কতাপূর্বক ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক নামাজের সময় সুন্দর পোশাকপরিচ্ছদ গ্রহণ কর। আর খাও এবং পান কর। তবে অপচয় ও অসংযমতা করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ সুরা আরাফ : ৩১

অন্য আয়াতে অভাবগ্রস্তকে সহযোগিতার পাশাপাশি অপচয়রোধের মাধ্যমে সুন্দর সমাজ গঠনের ইঙ্গিত রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আত্মীয়স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। কিছুতেই অপচয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। তুমি যদি তাদের (অভাবী আত্মীয়, মিসকিন ও মুসাফির) পাশ কাটাতে চাও এ জন্য যে, তুমি এখনো নিজের জন্য তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ লাভের সন্ধানে নিযুক্ত যা তুমি প্রত্যাশা কর, এমতাবস্থায় তাদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলো। তোমার হাতকে তোমার গলার সাথে বেঁধে (সহযোগিতা থেকে একেবারে বিরত) দিও না, আর তা একেবারে প্রসারিত (নিজের প্রয়োজন থাকার পরও) করেও দিও না, তা করলে তুমি নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়বে। নিশ্চয়ই তোমার পালনকর্তা যাকে ইচ্ছা অধিক জীবনোপকরণ দান করেন এবং তিনিই তা সংকুচিতও করে দেন। তিনি তার বান্দাদের সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন এবং সব কিছুই দেখেন।’ সুরা ইসরা : ২৬-৩০

কালোবাজারি ও মজুদদারি রোধ : কালোবাজারিরা বেশি লাভের আশায় দ্রব্যমূল্য মজুদদারি করায় সংকট তৈরি হয়। হঠাৎ দ্রব্যাদির সরবরাহ বন্ধ হওয়াতে দ্রব্যসংকট সৃষ্টি হয়। এতে কখনো কখনো দেখা দেয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি। এতে কালোবাজারিদের আয় বহুগুণে বেড়ে যায়, আর সর্বসাধারণকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই এসব কালোবাজারি দেশের আইনানুযায়ী যেমন শাস্তি পাওয়ার যোগ্য, তেমনি ইসলামি আইনানুযায়ীও তারা অভিশপ্ত। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের তাদের কৃত কোনো অন্যায় ছাড়াই কষ্ট দেয়, নিশ্চয়ই তারা বহন করবে অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপ।’ সুরা আহজাব : ৫৮

মজুদদারি ও তাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে যারা দ্রব্যসংকট তৈরি করে, তাদের জন্য ভয়ানক শাস্তি রয়েছে পরকালে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, নেককাজ ব্যতীত অন্য কিছু আয়ু বাড়াতে পারে না এবং দোয়া ব্যতীত অন্য কিছুতে তাকদির পরিবর্তন হয় না। মানুষ তার গোনাহের কারণে তার প্রাপ্য রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।’ সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০২২

বেশি বেশি তওবা (ইস্তিগফার) : ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যান্য বিপদ-বিপর্যয়ের ন্যায় এটাও বিপদ। এর প্রমাণ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে ও স্থলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তিনি তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা (অসৎ পথ থেকে) ফিরে আসে।’ সুরা আর রূম : ৪১

সুতরাং এই বিপর্যয় কেটে উঠতে তওবার বিকল্প নেই। তওবার ফলে আল্লাহতায়ালা আমাদের ৫টি মহান নিয়ামত দেবেন। তন্মধ্যে তিনটি দুনিয়ায় ও দুটি পরকালে। তা হলোউপকারী বৃষ্টি, নেক সন্তান, হালাল সম্পত্তি, অশেষ নিয়ামত জান্নাত এবং জান্নাতি নহর।

এখন প্রশ্ন হলো কতবার তওবা (ইস্তিগফার) করতে হবে? তার সংখ্যা নিয়ে বহু সহিহ হাদিস বর্ণিত রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বনিম্ন ৭০ বার উল্লেখ করা যায়। হাদিসে এসেছে, ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ৭০ বারেরও অধিক ইস্তিগফার ও তওবা করে থাকি।’ সহিহ বোখারি : ৫৭৫৪

সর্বসাধারণের (অভাবীদের) আমল : আয়ের তুলনায় ব্যয়ভার বেশি হলে মহান প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে তা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন। (এবং) তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’ সুরা তালাক : ২-৩

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com