শনিবার, ২৫ Jun ২০২২, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস: সৈকতে ভেসে আসছে ‘রাজ কাঁকড়া’

আবদুল আজিজ:
আজ ৫জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ দূষণরোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের লক্ষে বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপী এদিবসটি পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু, এই বিশেষ দিনে বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে ভেসে আসছে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ নামে পরিচিত নীল রক্তের সামুদ্রিক প্রাণী মৃত ‘রাজ কাঁকড়া’। জেলার বাঁকখালী নদীর মোহনাসহ সমুদ্র উপকূলের দুয়েকটি পয়েন্টে এসব মৃত ‘রাজ কাকড়া’ ভেসে এসেছে। পাশাপাশি জীবিত বেশকিছু ‘রাজ কাকড়া’ ভেসে উপকূলে আটকা পড়ছে। তবে কি কারণে এসব ‘রাজ কাকড়া’ মারা পড়ছে তা তাৎক্ষনিকভাবে বলতে পারেনি সমুদ্র গবেষণায় নিয়োজিত গবেষক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা।

শনিবার (৪ জুন) সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর মোহনা উপকূলে বেশকিছু ‘রাজ কাকড়া’ মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এদের বেশিরভাগ মৃত হলেও বেশ কয়েকটি জীবিত রয়েছে। পড়ে থাকা এসব ‘রাজ কাকড়া’কে কুকুর ও কাক সহ অন্যান্য পশুরা টেনে টেনে খাচ্ছে। উপকূলের ৫০ গজের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০টিরও বেশী ‘রাজ কাকড়া’ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সমুদ্র গবেষক ও বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘বঙ্গোপসাগরের ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ নামে পরিচিত নীল রক্তের এই সামুদ্রিক প্রাণী সবচেয়ে মুল্যবান। হয়তো সাগরে জেলেদের জালে আটকে বা অন্য কোন কারণে মরতে পারে। একইভাবে সাগর দুষিত হলেও এই প্রাণী মারা যেতে পারে। তবে উপকূলে ভেসে আসা এসব ‘কাকড়া’ কি কারণে মারা গেছে তা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল।

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বায়োলজিক্যাল ওশানোগ্রাফি বিভাগের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মুহাম্মদ শরীফ কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘রাজ কাকড়া’ বিশ্বের সবচেয়ে মুল্যবান সামুদ্রিক প্রাণী। সাগরের সর্বত্রে তাদের বিচরণ দেখা যায়। ধারনা করা হচ্ছে, সাগরে জেলেদের অসচেতনা ও অসাবধানতার কারণে জালে আটকে পড়ে অনেক ‘রাজ কাকড়া’ মারা যাচ্ছে। আবার সাগর দূষণ হলেও মারা যেতে পারে। তবে এসব ‘কাকড়া’ গুলো কি কারণে মারা গেছে তা এই মূহুর্তে বলা মুশকিল। অথচ এই সামুদ্রিক প্রাণী নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও গবেষণার মাধ্যমে দেশের সুনীল অর্থনীতির উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন বিজ্ঞানীরা। রক্তের ঔষধি গুণের কারণে ‘রাজ কাঁকড়া’ প্রাণীটি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বে ছয়-সাত দশক আগে গবেষণা শুরু হয়েছে।

কক্সবাজার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘সামুদ্রিক এই মুল্যবান প্রাণী ‘রাজ কাঁকড়া’র নীল রক্ত মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ড্রাস্টিতে অনেক মূল্যবান। ওষুধি গুনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর চাহিদা ব্যাপক। একারণে কক্সবাজার মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট এ বছর গবেষণার কাজ শুরু হয়েছে।’

কক্সবাজার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাকিয়া হাসান কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘সমুদ্রের সুনীল অর্থনীতিকে কাজে লাগাতে নতুন নতুন গবেষণা চলছে। ইতিমধ্যে আমরা সফলও হয়েছি। তাই, এই গুরুত্বপূর্ন প্রাণী রক্ষায় সকলকে সচেতন হওয়া উচিত।’

সমুদ্র গবেষক ও সাংবাদিক আহমদ গিয়াস কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের বঙ্গোপসাগরের একমাত্র লিভিংফসিল বা জীবন্তজীবাস্ম হল হর্সশো ক্র্যাব বা রাজ কাঁকড়া। যেটি স্থানীয়ভাবে ‘দিও কিঁয়ারা’নামে পরিচিত। প্রকৃতির নানা ভাঙ্গা গড়া ও দূর্যোগের মধ্যেও প্রায় ৫০ কোটি বছর ধওে প্রায় অবিকৃতভাবে টিকে আছে এ প্রাণিটি। নীল রক্তের এ প্রাণিটির রক্ত যাদুকরী ওষুধী গুণ সম্পন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত শতাব্দির ৫০ এর দশক থেকে বা আজ থেকে অন্তত ৭০ বছর আগেই এ প্রাণিটির ওষুধী গুণ নিয়ে গবেষণা শুরু হয় এবং ৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ এ্যাডমিনিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ ওষুধী কাজে প্রাণিটির রক্তের ব্যবহার অনুমোদন দেয়।

সামুদ্রিক ‘রাজ কাঁকড়া’র রক্তের দাম বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে অন্তত ১৫ লাখ টাকা। ঔষধি গুণের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণীটির এক গ্যালন রক্তের দাম ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। এই সামুদ্রিক প্রাণীটি চিকিৎসা শাস্ত্রে রাজ কাঁকড়ার নীল রক্ত এনেছে যাদুকরী পরিবর্তন। মানুষের শরীরের দ্রুত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে এবং মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করতে রাজ কাঁকড়ার নীল রক্ত অতুলনীয়। এছাড়াও ‘রাজ কাঁকড়া’ শরীরের পেছনে থাকা ছোট্ট লেজটি দিয়ে তৈরি করা হয় ক্যান্সারের ওষুধ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে একেকটি রাজ কাঁকড়ার দাম অনেক বেশি।

এদিকে আজ ৫জুন বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণ রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। দিবসটি সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালে জাতিসংঘ দ্বারা পালিত হয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরী করা, প্রকৃতিকে ভালোবাসা। যদিও প্রকৃতিকে প্রতিদিন ভালোবাসা উচিৎ তবু আজকের এই দিনে সারা বিশ্বের মানুষ আপন করে নেয় প্রকৃতিকে ও পরিবেশকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের উন্নয়নশীল অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারন করেছে। নানা কারণে সাগর দুষণ, সনাতন পদ্ধতিতে ইট পোড়ানো, যানবাহনের ধোঁয়া, অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজ এবং দূষণরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বায়ু দূষিত হচ্ছে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com