মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৪:২২ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

ইসলামে পোশাকের বিধান

ধর্ম ডেস্ক:
পোশাক মানুষের জন্য আল্লার অপার এক অনুগ্রহ এবং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সভ্যতার আদিকাল থেকে পোশাকের নানান উপস্থাপন, বিপণন ও ব্যবহার করে আসছে মানুষ। মানুষের রুচিবোধ ও ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে পোশাকের মধ্য দিয়ে। তাই পোশাক পরিধানে যথাযথ বিধিনিষেধ পালনের গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে আদম সন্তান, আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে, অবতীর্ণ করেছি সাজসজ্জার বস্ত্র এবং পরহেজগারির পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতের অন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তাভাবনা করে।’ সুরা আরাফ : ২৬

পবিত্র কোরআনের অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং তিনি (আল্লাহতায়ালা) তোমাদের জন্য পোশাক তৈরি করে দিয়েছেন, যা তোমাদের গ্রীষ্ম ও বিপদের সময় রক্ষা করে। এমনিভাবে তিনি তোমাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহের পূর্ণতা দান করেন, যাতে তোমরা আত্মসমর্পণ করো।’ সুরা নাহল : ৮১

পোশাক একদিকে মানুষের লজ্জাস্থান তথা বিশেষ অঙ্গসমূহ ঢেকে রেখে তনুমনে পবিত্রতা এনে দেয়, অন্যদিকে শারীরিক সৌন্দর্য ও অবয়বকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে আদম সন্তান, তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সৌন্দর্য (পোশাক) গ্রহণ করো, খাও ও পান করো, অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। আপনি বলুন, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য (পোশাক) ও পবিত্র খাদ্যবস্তু প্রদান করেছেন তা কে হারাম করেছে? আপনি বলুন, এসব নিয়ামত মুমিনদের জন্য পার্থিব জীবনে এবং কিয়ামতে শুধু তাদের জন্যই।’ সুরা আরাফ : ৩১-৩২

পোশাক পরিধানের লক্ষণীয় বিষয় ব্যক্তির দেহ-মনের পবিত্রতা রক্ষা পাওয়া, শরিয়তের সীমারেখার মধ্য থেকে পোশাকের সৌন্দর্য এবং উপকারিতা প্রকাশ ও উপভোগ করা। কিন্তু অনেককে এমন পোশাক পরতে দেখা যায়; যেখানে পোশাক পরার প্রকৃত অর্থই ব্যাহত হয়। সাহাবি হজরত দামুরা ইবনে সালাবা (রা.) বলেন, ‘তিনি একজোড়া ইয়েমেনি কাপড় পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে দামুরা, তুমি কি মনে করো তোমার এই কাপড় দুটি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? দামুরা (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি যদি আমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেন তাহলে বসার আগেই আমি আমার কাপড় দুটো খুলে ফেলব। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আল্লাহ আপনি দামুরাকে ক্ষমা করে দিন। তখন দামুরা দ্রুত গিয়ে তার কাপড় দুটো খুলে ফেলেন।’ মুসনাদে আহমাদ : ১৮৯৭৯

কালের স্রোতোধারায় ভিনদেশি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মুসলিমের চিন্তা ও মননে যেমন পরিবর্তন এনেছে, ঠিক তেমনি পরিবর্তন ঘটিয়েছে তাদের চালচলন, আচার-আচরণ ও জীববৈচিত্র্য। এ কারণে ইসলামে নারী-পুরুষের জন্য পোশাকের স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যের বিধান থাকলেও ক্রমেই বিষয়টি মøান হয়ে যাচ্ছে। অনেক নারীকে পুরষালি পোশাক আবার অনেক পুরুষকে মেয়েলি পোশাক পরতে দেখা যায়, যা ইসলামে গুরুতর অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘যে পুরুষ মহিলাদের মতো বা মহিলাদের পদ্ধতিতে পোশাক পরিধান করে এবং যে নারী-পুরুষদের মতো বা পুরুষদের পদ্ধতিতে পোশাক পরিধান করে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের অভিশাপ দিয়েছেন।’ সুনানে আবু দাউদ : ৪০৯৮

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি ‘যে নারী-পুরুষের অনুকরণে সাজসজ্জা বা চালচলন করে এবং যে পুরুষ নারীদের অনুকরণে সাজসজ্জা বা চালচলন করে তারা আমাদের (মুসলিম সমাজের) মধ্যে গণ্য নয়।’ মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭৫

ইসলাম নির্দেশিত পোশাক মুসলিম জাতির জন্য অত্যন্ত গর্ব ও গৌরবের। এতে তাদের শান-সম্ভ্রম রক্ষা পায় এবং সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। অহংকার ও দাম্ভিকতা প্রকাশ পায়, এমন পোশাক এড়িয়ে চলা তাদের একান্ত কাম্য। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রসিদ্ধির পোশাক পরিধান করবে আল্লাহতায়ালা কিয়ামতের দিন তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরাবেন। অতঃপর তাকে অগ্নিদগ্ধ করা হবে।’ সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০২৯

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অহংকার করে তার পোশাক ভূলুণ্ঠিত করে পরিধান করে মহান আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না।’ সহিহ বোখারি : ৫৭৯১

ইসলাম তার অনুসারী মুসলিম নারী-পুরুষের ‘সতর’, পরিধেয় পোশাকের ধরন, রং, ব্যাপ্তি ও পরিধি নির্ধারণ করে দিয়েছে। অনেক মুসলিম নর-নারীকে এ ব্যাপারে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিতে দেখা যায়; বিশেষত মুসলিম যুবসমাজে পশ্চিমাদের আদর্শ অনুসরণ এবং তাদের কৃষ্টি-কালচার ও সংস্কৃতি অনুকরণের যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে তা খুবই লজ্জাজনক। পোশাকপরিচ্ছদ, চালচলন, খাওয়া-পান করাসহ ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জাগতিক যেকোনো বিষয়ে অমুসলিমদের অনুসরণ-অনুকরণ মুসলিমের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। উপরন্তু এতে তাদের স্বীয় ধর্মের স্বকীয়তা বিবর্জিত হয়, লজ্জা-অনুতাপ ও অসম্মানের পথ উন্মোচিত হয়। এ প্রসঙ্গে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ কোনো সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাদৃশ্য বজায় রেখে চলে, তবে সে ওই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ সুনানে আবু দাউদ : ৩৯৮৯

আল্লাহতায়ালার মনোনীত ধর্ম ইসলাম। ইসলামের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও কালচার। আল্লাহপ্রদত্ত পয়গাম ও শরিয়তের ভিত্তিতে মানুষের সামাজিক জীবনের সৌজন্যমূলক আচরণ, শিষ্টাচার, সৎকর্মশীলতা ও উন্নত নৈতিকতা হলো ইসলামি সংস্কৃতির আদর্শ রূপ। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের আদর্শ, স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা বজায় রেখে চলা প্রতিটি মুসলমানের গুরুদায়িত্ব।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com