রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ০৬:২০ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

একনজরে পদ্মা সেতু

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
পদ্মার বুকে দৃষ্টিনন্দন সেতু নিয়ে আজ সবাই কথা বলছে। কিন্তু এই সেতু নির্মাণের পথ এত সহজ ছিল না। বিরোধী রাজনৈতিক দলের বাধা, বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলোর চূড়ান্ত অসযোগিতা, কথিত ঘুষ কেলেঙ্কারির বদনামের বোঝা নানান কিছুর মধ্যে একসময় পদ্মা সেতু নির্মাণ কল্পনার মনে হয়েছিল। কল্পনার সেই সেতুকে বাস্তবে নির্মাণের পথ দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তিনি একা লড়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

পদ্মা সেতুর নির্মাণের কাজ প্রথম দফায় শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে। সে দফায় প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা শেষ হলেও ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় তা আর আগায়নি। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ফের পদ্মা সেতু নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হয়। আজ সেই স্বপ্নের সেতুর শুভ উদ্বোধন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষকে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত করবে এই সেতু। বদলে দেবে অর্থনীতির চেহারা। এতে দেশের জিডিপি বাড় ১ দশমিক ২ শতাংশ।

স্বপ্নের শুরু যেখানে : ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের মোট জাতীয় বাজেট ছিল পৌনে ২৮ হাজার কোটি টাকা। সে বছরই পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরের বছর আরপিটি-নেডকো-বিসিএল নামের যৌথ উদ্যোগের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষাও শুরু হয়। ঠিক হয় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং মাওয়া-জাজিরার যেকোনো একটি স্থানে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। ২০০১ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা জমাও পড়ে, তবে ওই বছরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পদ্মা সেতু নির্মাণ আগায়নি।

২০০১ সাল থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। আর ২০০৭ সালের জানুয়ারির পর থেকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই দুই সরকারই পদ্মা সেতু প্রকল্পের একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করলেও তা অনুমোদন পর্যন্ত দিয়ে যায়নি। ফলে পদ্মা সেতুর প্রকৃত কাজ তখনো শুরুই হয়নি।

দ্বিতীয়বার পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ : ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ২২ দিনের মাথায় পদ্মা সেতুর পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির জন্য নিউজিল্যান্ডভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মনসেল এইকমকে নিয়োগ দেয় সরকার। তবে প্রথম দফায় সেতুর সঙ্গে রেলযোগাযোগ ছিল না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলসুবিধা যুক্ত করে চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নের নির্দেশনা দেন। এর মধ্যেই সরকার জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়।

মাত্র এক বছরের মাথায় পদ্মা সেতুর নকশা চূড়ান্ত হয়ে যায়। পরের বছর জানুয়ারিতে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধন করা হয়। সংশোধনীতে প্রথমবারের মতো প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। ব্যয় বাড়ার কারণ হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, প্রথম ডিপিপিতে সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩টির নিচ দিয়ে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা রেখে নকশা করা হয়েছিল। পরে ৩৭টি স্প্যানের নিচ দিয়ে নৌযান চলাচলের সুযোগ রাখার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। শুরুতে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল ৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার। পরে তা বৃদ্ধি করে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার করা হয়। আর এ কারণে সেতু নির্মাণের খরচও বেড়েছে।

বড় বাধা বিশ্বব্যাংক, এডিবির মতো দাতারা!

সরকার পদ্মা সেতুর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। সেখান থেকে ২০০৯ সালে একটি প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রাথমিক ডিজাইন সম্পন্ন করলে সরকারের সেতু বিভাগ প্রি-কোয়ালিফিকেশন দরপত্র ডাকে।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ২০ জুলাই ২০১০ ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রি-কোয়ালিফাইড বিবেচনা করে প্রতিবেদন দেয়। এ দফায় প্রতিবেদন বিশ^ব্যাংকের পছন্দ না হওয়ায় তারা ১০ অক্টোবর ২০১০ নতুন করে প্রি-কোয়ালিফিকেশন দরপত্র ডাকার অনুরোধ করে। বিশ্বব্যাংকের শর্তানুসারে ফের প্রি-কোয়ালিফিকেশন দরপত্র ডাকা হয়। ২৪ নভেম্বরের মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান প্রি-কোয়ালিফিকেশন দরপত্র দাখিল করে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্রি-কোয়ালিফাইড বিবেচনা করে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি প্রতিবেদন দিয়ে বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তির জন্য পাঠানো হলে বিশ্বব্যাংক ১ জুলাই অনাপত্তি দেয়। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকা, ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পদ্মা সেতুতে ঋণ দিতে রাজি হয়। সেতুর নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকার ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঋণচুক্তিও সই করে।

২০১১ সালের ১৩ জুলাই সেতু বিভাগ থেকে মূল সেতুর বিড ডকুমেন্ট বিশ^ব্যাংকের সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। তবে এর আগেই নির্মাণকাজের তদারক করতে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে সংস্থাটি। ওই ডকুমেন্টে বিশ্বব্যাংক সম্মতি না দিয়ে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুর ১২০ কোটি ডলার ঋণচুক্তি স্থগিত করে এবং পরে ঋণ চুক্তিটি বাতিলও করে দেয়। এরপর একে একে অন্যান্য সংস্থাও পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়।

শেখ হাসিনা অদম্য ছিলেন

বিশ্বব্যাক, এডিবি, জাইকা, আইডিবি সরে আসবে এমনটি বুঝতে পেরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দাতা সংস্থাগুলোর পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন।

২০১২ সালের ৮ জুলাই মাসে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে ১২ জুলাই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পদ্মা সেতু নির্মাণের শুরু : মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে সেতু নির্মাণের মূল কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর। এরপর তিন দফা, অর্থাৎ ২০১৬, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ডিপিপি সংশোধন করা হয়। এর মধ্যে ২০১৬ সালের সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত সেই ব্যয়ের পরিমাণই বহাল আছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

কোনো সেতু হয় স্টিলের না হয় কংক্রিটের। কিন্তু পদ্মা সেতু স্টিল ও কংক্রিটের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে। সেতুর মূল কাঠামোটা স্টিলের, যা স্প্যান হিসেবে পরিচিত। খুঁটি ও যানবাহন চলাচলের পথ কংক্রিটের। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। ৪২টি খুঁটির সঙ্গে স্প্যানগুলো জোড়া দিয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর আর পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয় ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল।

পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যানটি শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পানির ওপর ভাসমান ক্রেনের সাহায্যে বসানো হয়। এরপর দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে ১১৯ দিন পরে ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি। আর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের মাঝে ৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে গোটা পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়।

প্রথম স্প্যান বসানোর পর শেষ স্প্যান স্থাপন করতে সময় লেগেছে ১ হাজার ১৬৭ দিন। গড়ে ২৮ দিনে একটি করে স্প্যান বসেছে। পদ্মায় স্রোতের কারণে জুন-আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস স্প্যান বসানো বন্ধ ছিল। ২০১৭ সালে ১টি, ২০১৮ সালে ৪টি, ২০১৯ সালে ১৪টি এবং ২০২০ সালে ২২টি স্প্যান বসেছে।

৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকার পদ্মা সেতু প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ঢাকা থেকে মাওয়া এবং জাজিরা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়ের ব্যয়। এটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন (পশ্চিম)। ২০১৬ সালে এক্সপ্রেসওয়েটির কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের ৯ এপ্রিল উদ্বোধন করা হয় ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে।

মূল সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)। নদীশাসনের কাজ করেছে চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন। জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছে আবদুল মোনেম লিমিটেড। সার্ভিস এলাকা (নির্মাণ অবকাঠামো) নির্মাণের কাজও করেছে মোনেম লিমিটেড। সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এলাকার নির্মাণকাজ তদারক করছে সেনাবাহিনী। মূল সেতু ও নদীশাসনের কাজ তদারকি করছে কোরিয়াভিত্তিক এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি।

প্রকল্পের অংশ হিসেবে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে ৪ লাখ গাছ লাগানো হবে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে।

সেতুতে কী কী থাকছে?

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। প্রশস্ত ২২ মিটার। চার লেনের সড়কটিতে থাকছে রোড ডিভাইডার বা সড়ক বিভাজক। পদ্মা সেতুতে থাকছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ পরিবহন; অর্থাৎ এসব পরিসেবা পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ঢাকার বাইরের ২১ জেলাকে যুক্ত করবে। পদ্মা সেতুর মোট খুঁটি বা পিলারের সংখ্যা ৪২টি। স্টিল ট্রাসের মাধ্যমে পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে।

মূল সেতু ব্যয়ে খরচ ১২ হাজার কোটি টাকা!

পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী প্রকল্প, এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে নদীশাসন, পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়ে ও সেতুর সঙ্গে রেলযোগাযোগ। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদীশাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ, বেতন-ভাতা ইত্যাদি। এই প্রকল্পের জন্য ৬ হাজার ২৫৬ একর জমি কেনা হয়েছে। এ জন্য বাজারমূল্যের তিন গুণ ক্ষতিপূরণ দিয়েছে সরকার।

মূল পদ্মা সেতু তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। ঢাকা থেকে মাওয়া এবং জাজিরা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়ের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৪ কোটি টাকা। নদীশাসনে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুতে নদীশাসন হয়েছে ১৪ দশমিক ০৩ কিলোমিটার।

বিশ্বব্যাংকসহ পশ্চিমা দাতা সংস্থাগুলো পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করার ফলে চীন ছাড়া অন্য কোনো দেশের প্রতিষ্ঠান পদ্মা সেতু নির্মাণের দরপত্রে অংশ নেয়নি। ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করে। যার ব্যয় ১২ হাজার ১৩৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। ইঞ্জিনিয়ার্স এস্টিমেট অনুযায়ী সর্বসাকল্যে ১৩ হাজার ৮৮৫ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এই আর্থিক প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, চায়না মেজর ব্রিজের দেওয়া প্রস্তাবে সরকারি প্রস্তাবের নির্ধারিত ব্যয় থেকে শতকরা ১২ দশমিক ৬২ ভাগ কম দিয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com