মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৫:১১ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

জান্নাতের পথে অন্তরায়

ধর্ম ডেস্ক:
জান্নাতে যাওয়ার প্রধান অন্তরায়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- অবৈধ উপার্জন। অবৈধ উপার্জন দিয়ে নিজের ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করলে তা জান্নাতের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ -বায়হাকি : ৫৫২০

হালাল মানুষকে জান্নাতে পৌঁছায়, আর হারাম পৌঁছায় জাহান্নামে। হারামের সঙ্গে জান্নাতের কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং পরকালীন শান্তি পেতে হলে দুনিয়ায় হালালের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে হবে। অথচ আমরা কতই না বোকা! দুনিয়ার অনিশ্চিত জীবনের কথিত একটু সুখের জন্য অবলীলায় জান্নাতের সীমাহীন সুখকে জলাঞ্জলি দিচ্ছি, হারাম উপার্জন দিয়ে চিরতরে বন্ধ করে দিচ্ছি জান্নাতের প্রশস্ত পথ! আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘এবং তাকে এমন স্থান থেকে তিনি রিজিক দান করবেন, যা সে ধারণাও করে না। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট। নিশ্চিত জেনে রেখো, আল্লাহ তার কাজ পূরণ করে থাকেন। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য একটা মাত্রা ঠিক করে রেখেছেন।’ -সুরা তালাক : ০৩

হালাল উপার্জন পরিমাণে অল্প হলেও মহান আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন। হারাম উপার্জন বেশি হলেও দিনশেষে তা শুধু ক্ষতিই বয়ে আনে। হারামের মধ্যে কোনো আরাম নেই, নেই কোনো সুখ; আছে শুধু মানসিক অশান্তি, অস্থিরতা ও দুচিন্তা। তাই সত্যিকারার্থে সুখী হতে চাইলে হারাম থেকে দূরে থাকতে হবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং উত্তম পন্থায় জীবিকা অন্বেষণ কর। যা হালাল তাই গ্রহণ করো এবং যা হারাম তা বর্জন করো।’ -ইবনে মাজাহ : ২১৪৪

হালাল খাদ্য সবসময় পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত, রুচিশীল। এটাতে কোনো ভেজাল থাকে না। হালাল অল্প খেলেও তৃপ্তি আসে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে মানুষ সকল! পৃথিবীতে যত হালাল এবং পবিত্র খাদ্য রয়েছে, তা খাও; কিন্তু শয়তানের অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ -সুরা আল বাকারা : ১৬৮

আমরা যদি স্বল্পসংখ্যক হারাম থেকে বেঁচে চলতে পারি, তাহলে অবলীলায় হালাল রিজিক (উপার্জন) দিয়ে জীবন সাজাতে পারব। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত নিম্নোক্ত দোয়াটি মহান আল্লাহর কাছে করতেন, ‘হে আল্লাহ! হালালকে আমার জন্য যথেষ্ট করুন, হারাম থেকে দূরে রাখুন। আপনার অনুগ্রহে অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে আমাকে রক্ষা করুন।’- তিরমিজি : ১৪৮৬

মৌলিকভাবে পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছুই হালাল। বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া অতি উৎসাহী হয়ে যারা কথায় কথায় শুধু হারাম হারাম করে ফতোয়া দেয়, তাদের ভর্ৎসনা করে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ধ্বংস তাদের, যারা আল্লাহ যেটাকে হালাল করেছেন, সেটাকে আগ বাড়িয়ে হারাম বলে অভিহিত করে। কথাটি তিনি তিনবার বলেন।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৪৬০৮

মৌলিকভাবে আল্লাহ সৃষ্ট সব জিনিসই যে হালাল, তা কোনো মনগড়া কথা নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করে বলেন, ‘তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি পৃথিবীতে যা কিছু আছে; সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।’ -সুরা আল বাকারা : ২৯

হালালের পরিধি ব্যাপক এবং হারামের পরিধি সীমিত। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমাদের গৃহপালিত পশু হালাল; কেবল সামনে যেগুলো জানানো হবে সেগুলো ছাড়া।’ -সুরা মায়েদা : ০১

সুরা মায়েদা ৯৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘তোমাদের জন্য সমুদ্রের প্রাণী শিকার এবং তা খাওয়া হালাল করা হয়ছে। যেখানে তোমরা অবস্থান করবে, সেখানে তা খেতে পারো এবং কাফেলার জন্য পাথেয় হিসেবে নিয়ে যেতেও পারো।’

বর্ণিত আয়াতে আল্লাহতায়ালা হালাল ঘোষণার ক্ষেত্রে ব্যাপকার্থক শব্দ ব্যবহার করেন। কিন্তু হারাম ঘোষণা করেছেন, তখন নাম ধরে ধরে নির্দিষ্ট করে ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মৃত প্রাণী খাওয়া হারাম, রক্ত খাওয়া হারাম, শূকর খাওয়া হারাম, আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের নামে জবেহ দেওয়া হয়েছে- এমন প্রাণী খাওয়া হারাম, শিঙের গুঁতোয় মৃত্যুবরণ করা প্রাণী খাওয়া হারাম।’ -সুরা মায়েদা : ০৩

আল্লাহতায়ালা যেকোনো হারামের ঘোষণা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, নিম্নোক্ত আয়াতটি তার অকাট্য প্রমাণ, ‘হে ইমানদাররা! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ- এ সমস্ত হচ্ছে ঘৃণ্য শয়তানি কার্যকলাপ। এগুলো থেকে দূরে থাকো। আশা করা যায়, তোমরা সফলতা লাভ করবে।’ -সুরা মায়েদা : ৯০

সাধারণত তিনটি কারণে ইসলাম কোনো জিনিসকে হারাম ঘোষণা করে-

অপবিত্রতা : যথা প্রস্রাব-পায়খানা, গরুর গোবর-মূত্র। এগুলো অপবিত্র। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আর তিনি তাদের জন্য পাক-পবিত্র জিনিসগুলোকে হালাল এবং নাপাক জিনিসগুলোকে হারাম করেছেন।’ -সুরা আরাফ : ১৫৭

অশ্লীলতা : যথা অশ্লীল গান, নাটক, সিনেমা, পর্নোগ্রাফি দেখা হারাম। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী! তাদের বলে দাও, আল্লাহ যেসব জিনিস হারাম করেছেন, সেগুলো হচ্ছে প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা।’ -আরাফ : ৩৩

ক্ষতিকারক : যথা ইয়াবা সেবন, মদ খাওয়া, সিগারেট খাওয়া শারীরিক এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘নিজের হাতে নিজেকে ক্ষতির মুখে নিক্ষেপ কোরো না। অনুগ্রহ প্রদর্শনের পথ অবলম্বন করো। কেননা, আল্লাহ অনুগ্রহ প্রদর্শনকারীদের ভালোবাসেন।’ -সুরা আল বাকারা : ১৯৫

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com