শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

নেইমারে প্রস্তুত ব্রাজিল

খেলাধুলা ডেস্ক:

ব্রাজিল কোচ তিতের সংবাদ সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের মধ্যে এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খেয়েছে সারাক্ষণ। আগের দিন রাতে ট্রেনিং সেশনের যে ছবি ভাইরাল হয়েছে, তাতে নেইমারকে দেখা গেছে দারুণ স্বতঃস্ফূর্ত। ২৪ নভেম্বরের পর শনিবার রাতে প্রথম বুট পরে অনুশীলনে নেমেছিলেন পিএসজি তারকা। উচ্ছল উপস্থিতি, নিশানাভেদ এবং দিন শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার পোস্ট করা বিখ্যাত শিল্পী জেমস ব্রাউনের গানের পঙ্ক্তি ‘আমি ভালো আছি, আমি জানি আমি এখন কেমন বোধ করছি’ দেখে দুয়ে দুয়ে চার মেলাতে চেয়েছেন তিতের অপেক্ষায় বসে থাকা মিডিয়াকর্মীরা। ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রাণভ্রমরার ফেরাটা বড্ড জরুরি। আজ সেলেসাওদের চ্যালেঞ্জ জানানোর অপেক্ষায় এশিয়ান জায়ান্টস দক্ষিণ কোরিয়া। তিতে অবশ্য নেইমারকে আর রহস্যের বৃত্তে বন্দি রাখেননি। প্রফেসর জানিয়েছেন, তিনি ফিরছেন।

বিশ্বকাপ এলেই নেইমারে-চোটে গড়ে ওঠে সখ্য। ২০১৪-তে অভিষেক থেকেই শুরু। চোট পেয়ে সেমিফাইনাল মিস করেন ব্রাজিল তারকা। গ্যালারি থেকে জার্মান মেশিনে দলকে পিষ্ট হতে দেখেন। ৭-১ গোলের সেই হার চিরস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করে ব্রাজিলিয়ানদের হৃদয়ে। এরপর চোট নিয়েই খেলেন ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ। তবে দুই আসরেই করেছিলেন ৬ গোল, ২০১৪-তে চারটি, আর রাশিয়ায় ২টি। কাতারে খেলা এক ম্যাচে অবশ্য গোলের দেখা পাননি ব্রাজিলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। ফলে পেলের ৭৭-কে ছাড়ানোর অপেক্ষাটা বাড়ছে ৩০ বছরের নেইমারের।

সংবাদ সম্মেলনে তিতেকে বেশ আশাবাদী মনে হয়েছে। শুরুতেই নেইমারের বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন ৬১ বছর বয়সী কোচ, ‘এই সন্ধ্যায় নেইমার দলের সঙ্গে অনুশীলন করবে এবং হয়তো এই ম্যাচেও তাকে দেখা যেতে পারে। আমি কোনো ভণিতা করতে চাই না এবং এমন কিছু বলতে চাই না, যা অসত্য। নেইমারের খেলার সিদ্ধান্তটা আসবে মেডিকেল ডিপার্টমেন্ট থেকে। আজ (গতকাল) যদি সে ট্রেনিংয়ে ভালো বোধ করে, সে খেলবে। তবে বাকি দশজন ঠিক করিনি। আমি চাইব সেরা দলটাকেই শুরু থেকে পেতে। ‘দানিলোর খেলা এবং অ্যালেক্স সান্দ্রোকে না পাওয়ার ব্যাপারটাও নিশ্চিত করেছেন তিতে, ‘অ্যালেক্স সান্দ্রো খেলছে না। কারণ সে এখনো সেরে ওঠেনি। তবে লেফটব্যাকে কে খেলবে, সেটা একজন কোচ হিসেবে জানিয়ে দেওয়াটা বড় বোকামি। দানিলো ট্রেনিংয়ে অনেক ভালো করছে। যা আমাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা।’

একের পর এক চোটে এতদিন ব্রাজিল শিবির ছিল টালমাটাল। নেইমারের মতোই অনিশ্চয়তার দোলায় দুলছিলেন জুভেন্তাস রাইটব্যাক দানিলো। তিতে নিশ্চিত না করলেও তাকে আজ দেখা যেতে পারে লেফটব্যাক পজিশনে। জুভেন্তাসের হয়ে এই পজিশনে আগেও খেলেছেন তিনি। যদি সেটাই হয়, তবে রাইটব্যাকে মিলিতাও ও দানি আলভেজের মধ্যে একজন খেলবেন। দানি আলভেজ যে বুড়িয়ে গেছেন তার প্রমাণ ক্যামেরুন ম্যাচে ভালোই মিলেছে। সেক্ষেত্রে কোরিয়ার বিপক্ষে তিতে হয়তো মিলিতাওকেই খেলাবেন।

ক্যামেরুনের ম্যাচে হাঁটুতে চোট পেয়ে শেষ হয়ে গেছে স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও ফুলব্যাক অ্যালেক্স তেলেসের বিশ্বকাপ। এই দুই ক্ষতি ব্রাজিলকে কতটা ভোগাবে, তা আজই অনেকটা বোঝা যাবে। তাদের অনুপস্থিতিতে হতাশা গ্রাস করেছে তিতেকেও, ‘ছেলেদের এরকম পরিস্থিতিতে দেখাটা আমার জন্য বড্ড কষ্টের। কারণ তারা বিশ্বকাপে আর আমাদের সঙ্গে মাঠে আসতে পারবে না। তারপরও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ওদের স্বস্তি দিতেই আমাদের কাজটা ঠিকঠাক করতে হবে। আশা করছি ওরা দ্রুত সেরে উঠবে।’

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে গত জুনে সিউলে প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের নিতে হয় ৫-১ গোলে হারের তেতো স্বাদ। পর্তুগালকে হারিয়ে, উরুগুয়ের বিদায় নিশ্চিত করে শেষ ষোলতে তৃতীয়বারের মতো খেলতে যাচ্ছে নিজেদের আঙিনায় ২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। এর আগে বিশ্বকাপে কখনই কোনো লাতিন প্রতিপক্ষকে হারাতে না পারা কোরিয়ানদের পর্তুগিজ কোচ পাউলো বেন্তো দিয়েছেন নির্ভার হয়ে খেলার প্রতিশ্রুতি, ‘এই ম্যাচে আমাদের হারানোর কিছুই নেই। ম্যাচটা হতে পারে কিছু অর্জনের। এই ম্যাচে আমরা নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিতে পারি শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই করে।’ নেইমারের বিপক্ষে খেলা নিয়েও কথা বলেছেন বেন্তো, ‘এটা হঠকারিতা হবে, যদি বলি আমরা নেইমারের বিপক্ষে খেলতে চাই। এটা অবশ্যই মিথ্যে। তবে আমি সবসময়ই চাই সেরা খেলোয়াড়রা মাঠে থাকুক। কেউ যাতে ইনজুরির জন্য বাইরে না থাকে। আসলে আমাদের সেরা কৌশল নিয়ে সেরা খেলাটাই বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। যে দলটি জুড়েই প্রতিভার ছড়াছড়ি।’ বিশ্বকাপ মঞ্চে ব্রাজিল কখনই কোনো এশিয়ান দলের কাছে হারেনি। কুড়ি বছর আগে কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে শেষবারের মতো বিজয়ের মঞ্চে হয়েছিল সাম্বা। সেবার সেলেসাওদের দু’হাত ভরে দিয়েছিল কোরিয়ানরা। হেক্সা মিশনে মরুর বিশ্বকাপে আসা সেই কোরিয়াই আজ তাদের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে।

আগের সাতবারের দেখায় ব্রাজিলের জয় ছয়টিতে। তবে ১৯৯৯ সালে সিউল স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ১-০ গোলে পরাস্ত হতে হয় তাদের। আজ স্টেডিয়াম ৯৭৪-এ সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারলেই কোরিয়ার নাম লেখা হবে ইতিহাসের পাতায়। আর ব্রাজিলকে টানা ৯ আসর পর দ্বিতীয়পর্ব থেকে বিদায়ের পরিণতি বরণ করতে হবে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com