শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

নেক আমল কবুলের ৩ শর্ত

আবদুল আউওয়াল:

বান্দার নেক আমল আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য ৩টি শর্ত রয়েছে। ইমান, ইখলাস ও সুন্নাহ। এগুলোর অভাবে নেক আমল বিনষ্ট হয়।

ইমান : ইমান বলতে বোঝায়সৃষ্টিকর্তা দয়াময় আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, নবী-রাসুল, তাকদিরের ভালোমন্দ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে মুখে স্বীকৃতি বাক্য তথা কালেমায়ে শাহাদাহ পাঠ করা। শিরিক তথা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা। কারণ, ইমান হলোনেক আমলের মূল ভিত্তি। আল্লাহতায়ালার কাছে বান্দার ভালো কর্মগুলো পৌঁছার সেতুবন্ধ। ‘পরকালে শুধু অণু পরিমাণ ইমান দিয়েও অসংখ্য মানুষ জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে।’ জামে তিরমিজি : ২৫৯৩

অথচ দেখা যাবে তাদের আমলনামায় না আছে নামাজ, না আছে রোজা। না আছে হজ, না আছে জাকাত। ইমানের ছিটেফোঁটা, ক্ষীণ আলোকবিন্দুও যদি কোনো মানুষের দিলে থাকে সেও পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে জাহান্নাম থেকে একসময় মুক্তি পাবে। দশ দুনিয়ার সমপরিমাণ জান্নাতের অংশ পাবে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যার শেষ কথা ‘লা ইলাহ ইল্লাহ’ হবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ সুনানে আবু দাউদ : ৩১১৮

কিন্তু ইমান না থাকলে দুনিয়ার যত নেক আমল সব বৃথা যাবে। ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। কোরআনের ভাষায় সে হবে কাফের কিংবা মুশরিক। আর কাফেরের আমল হবে পরকালে মূল্যহীন‘নিশ্চয় যারা কুফুরি করে এবং কাফের অবস্থায় মারা যায় তাদের কেউ পৃথিবী ভর্তি স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রদান করলেও তা গ্রহণ করা হবে না, তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।’ সুরা আলে ইমরান : ৯১

মুশরিকদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘আর আল্লাহ মুশরিকদের কখনো ক্ষমা করবেন না।’ সুরা আন নিসা : ৪৮

অন্যত্র এসেছে, ‘কেউ ইমান অমান্য করলে, তার আমলগুলো নিষ্ফল হবে। আর সে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ সুরা মায়েদা : ৫

সুরা ফুরকানের ২৩ নম্বর আয়াতে তাদের আমলের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘আর তারা যে আমল করেছিল আমি তার কাছে যাব এবং তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।’ অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘যারা তাদের রবের সঙ্গে কুফুরি করে তাদের আমলসমূহের দৃষ্টান্ত হলো, এমন ছাইয়ের মতো, যা ঘূর্ণিঝড়ের দিনে প্রচন্ড বাতাস বহন করে নিয়ে যায়। তাদের আমল কোনো উপকারে আসবে না।’ সুরা ইবরাহিম : ১৮

সুরা নুরের ৩৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যারা কুফুরি করে তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকার মতো, পিপাসা কাতর ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে, কিন্তু যখন কাছে যায় তখন দেখে সেটা কিছুই নয়…।’

তবে কাফেরদের মধ্যে যারা দুনিয়ায় টুকটাক ভালো কাজ করে তার বিনিময়ে দুনিয়ায় আরামের জীবন পায়, ‘নিশ্চয় কোনো কাফের ভালো কাজ করলে তাকে দুনিয়ার স্বাচ্ছন্দ্য দান করা হয়।’ সহিহ মুসলিম : ২৮০৮

ইখলাস : ইখলাস বলতে বোঝায়বিশুদ্ধ নিয়তকে। বান্দা তার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব কথা ও কাজে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের শুধু খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ সুরা আল-বাইয়্যিনাহ : ৫

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কোরবানি ও আমার জীবন-মরণ সবই আল্লাহর জন্য নির্ধারিত।’ সুরা আরাফ : ১৬২

সুতরাং বিশুদ্ধ নিয়ত যেকোনো নেক আমলের আগে আবশ্যক। কারণ, সব কাজের প্রতিফল শুধু নিয়তের ওপর নির্ভরশীল‘প্রত্যেক ব্যক্তিই নিয়ত অনুসারে তার কাজের প্রতিফল পাবে।’ সহিহ বোখারি : ১

সুন্নাহ : সুন্নাহ বলতে বোঝায়হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শকে। তার বর্ণিত আদেশ-নিষেধকে। তিনি যে আমল যেভাবে করতে বলছেন সেভাবেই তা পালন করা। তার নীতি-আদর্শের পরিপন্থী যাবতীয় আইন-কানুন, পথ-মত, জাহিলিয়াত ও নাফসানিয়াত পরিহার করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, রাসুল তোমাদের যা আদেশ দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।’ সুরা হাশর : ৭

অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘যে রাসুলের আনুগত্য করল, সে যেন আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ সুরা নিসা : ৮০

অন্যত্র এসেছে, ‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।’ সুরা আহজাব : ২১

রাসুলের আদর্শের পরিপন্থী আমল করলে সেটা হবে বিদআত। বিদআতযুক্ত আমল পরকালে মূল্যহীন হবে। এ মর্মে নবী করিম (সা.) উম্মতকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো নতুন বিষয় সংযোজন করে, যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।’ সহিহ বোখারি : ২৫৫০

আরেক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘(জেনে রেখো) সবচেয়ে ভালো বাণী হচ্ছেআল্লাহর কিতাব। আর সবচেয়ে ভালো নিয়ম হচ্ছেমুহাম্মদ (সা.)-এর নিয়ম। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হলো(দ্বীনের ব্যাপারে) বিদআত, তথা দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করা। আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা।’ সহিহ মুসলিম : ২০৪০

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com