শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০৪ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

পথ দেখানোর সওয়াব

মুফতি সাদেকুর রহমান:

দিন যত যাচ্ছে, বিজ্ঞান যত উৎকর্ষ সাধন করছে, মানুষ তত বস্তুবাদের প্রতি ধাবিত হচ্ছে। বস্তু ও যন্ত্রের ছোঁয়ায় মানুষ যেন মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলছে। খুইয়ে ফেলছে নীতি-নৈতিকতা ও মানবতা। শহুরে জীবন ব্যস্ততম জীবন। কেউ কারও দিকে তাকানোর সুযোগ নেই। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। এটা ভালো, খারাপ নয়। কিন্তু কোনো মানুষ বিপদে পতিত হলে তার পাশে দাঁড়ানো, তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াএটা যেমন প্রতিটি মানবের নৈতিক দায়িত্ব, ঠিক তেমনি মানবতার ধর্ম ইসলাম এর প্রতি উৎসাহিত করেছে। ক্ষেত্রবিশেষ এমন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির সাহায্যে এগিয়ে আশাকে আবশ্যক করে দিয়েছে।

মাঝেমধ্যে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শোনা যায়, গাঁয়ের অনেক মানুষ শহরে আসে কোনো প্রয়োজনের তাগিদে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে। সহজ-সরল মানুষ, ডান-বাম তেমন চেনে না। পথ-ঘাট চেনে না, বাসার ঠিকানা খুঁজে পায় না। তখন সে শহুরের মানুষের প্রতি মুখাপেক্ষী হয়। তাদের জিজ্ঞেস করে কিন্তু অনেককেই দেখা যায়, পথিককে সঠিক পথের দিশা দেয় না, বিরক্তবোধ করে। কেউ তো এই সুযোগে তার সবকিছু ছিনিয়েও নিয়ে যায়। আর রোড এক্সিডেন্ট হলে তো কথাই নেই।

কিছু বিবেক এবং মানবতাহীন মানুষকে দেখা যায়, আহত-নিহতদের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে তাদের মালামাল ও অর্থ-সম্পদ লুটতে শুরু করে! মানুষ হিসেবে এটা যে কত বড় অমানবিক ও লজ্জাজনক কাজ, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অথচ ইসলাম বিপদগ্রস্ত লোকদের সাহায্য করতে এবং পথভোলা পথিকের পথ দেখিয়ে দিতে আদেশ করেছে।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তাকওয়া এবং পুণ্যের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো। পাপাচার এবং অবাধ্যতার কাজে একে অপরের সহযোগী হয়ো না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ সুরা মায়েদা : ২

এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ১. হাস্যোজ্জ্বল মুখে মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ২. সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ, ৩. পথহারা লোককে পথের সন্ধান দেওয়া, ৪. দৃষ্টিহীনকে পথ দেখানো, ৫, রাস্তায় থাকা পাথর, কাঁটা ও হাড় বা কষ্টদায়ক বস্তু রাস্তা থেকে সরানো ও ৬. নিজ বালতি দিয়ে পানি তুলে অপর ভাইয়ের বালতিতে ঢেলে দেওয়াএসবই তোমার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে। সুনানে তিরমিজি : ১৯৫৬

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা রাস্তার ওপর বসা থেকে দূরে থাকো। লোকজন বলল, এ ছাড়া তো আমাদের কোনো উপায় নেই। কেননা, এটাই আমাদের ওঠাবসার জায়গা এবং এখানে বসেই আমরা কথাবার্তা বলে থাকি। তিনি বলেন, যদি তোমাদের সেখানে বসতেই হয়, তবে রাস্তার হক আদায় করবে। তারা প্রশ্ন করলেন, রাস্তার হক কী? তিনি বললেন, ১. দৃষ্টি অবনমিত রাখা, ২. মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, ৩. সালামের উত্তর দেওয়া, ৪. সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং ৫. অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা। সহিহ বোখারি : ১৫৪৬

হাদিসে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের যদি রাস্তায় বসতেই হয় তাহলে সালামের প্রসার করো, মাজলুমকে সাহায্য করো এবং মানুষকে পথ দেখাও।’ মুসনাদে আহমদ : ১৭৭৫২

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আর তোমরা বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করবে এবং পথহারাকে পথ দেখাবে।’ সুনানে আবু দাউদ : ৬৭২

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com