শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

পাহাড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন নিরুদ্দেশ তরুণরা

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

দেশের বিভিন্ন জেলায় বাড়ি থেকে নিজ ইচ্ছায় নিরুদ্দেশ হওয়া তরুণদের অনেকেই যুক্ত হয়েছেন নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শরক্বীয়া’র সঙ্গে। এ সংগঠনে যুক্ত হওয়া তরুণদের অনেকেই সমতলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সমতলে সফল প্রশিক্ষণ শেষ হলে তাদের অস্ত্র চালানো, বোমা তৈরি, বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোসহ নানা সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফ তাদের এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বান্দরবান র‌্যাব ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন জানান, বিভিন্ন সময়ে ১৯ জেলা থেকে ৫৫ জন তরুণ নিখোঁজ হন বা বাড়ি থেকে নিজ ইচ্ছায় নিরুদ্দেশ হয়েছেন। তাদের অনেকেই এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। নিরুদ্দেশ হওয়াদের মধ্যে আছেন- নারায়নগঞ্জের চার জন আছেন। নেত্রকোনা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, মাগুরা, সুনামগঞ্জ, খুলনা, চাঁদপুর, ঝিনাইদহ ও টাঙ্গাইলের একজন করে তরুণ নিরুদ্দেশের তালিকায় রয়েছেন। এছাড়া মাদারীপুর-ফরিদপুর ও ঝালকাঠির দুই জন করে, বরিশালের তিন, সিলেটের সাত, কুমিল্লার ১৫ ও ঢাকার চার জন নিরুদ্দেশ হয়েছেন।

নিখোঁজ হওয়া ৫৫ তরুণ হলেন- কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার মো. দিদার, সিলেট বিয়ানীবাজারের তাহিয়াত চৌধুরী, কুমিল্লার বরুড়া থানার আহাদ, ঝালকাঠির নলছিটি’র মশিউর রহমান (মিলন তালুকদার), কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার সাখাওয়াত হোসাইন, বরিশাল জেলার ফরফরিয়া তলা এলাকার আরিফুর রহমান, চাঁদপুরের মো. নাঈম হোসেন, ময়মনসিংহ ফুলপুর এলাকার শামীম মিয়া, পটুয়াখালী সদরের আল আমীন ফকির, কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা এলাকার আমিনুল ইসলাম (আল আমিন), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার মো. নাজমুল আলম নাহিদ, খুলনার ডুমুরিয়ার আল আমিন, সিলেটের ওসমানি নগরের শেখ আহমদ মামুন, কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার মো. আস-সামি রহমান, সিলেট ওসমানি নগরের সাদিক, একই এলাকার হাসান সাঈদ, কুমিল্লা চান্দিনার বায়েজিদ, পটুয়াখালীর মিরাজগঞ্জের জুয়েল মুসল্লী, কুমিল্লা কোতোয়ালির ইমরান বিন রহমান শিথিল, সিলেট ওসমানি নগরের সাইফুল ইসলাম তুহিন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণের আল-আমিন, কুমিল্লা লাকসামের ইমরান, সিলেট দক্ষিণ সুরমার শিব্বির আহমদ, ঝালকাঠি জেলা ও থানার হাবিবুর রহমান, ফরিদপুর চরভদ্রাসনের মুহাম্মদ আবু জাফর, কুমিল্লা লাকসামের যুবায়ের, কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার নিহাল আব্দুল্লাহ, বরিশাল বাকেরগঞ্জের মাহমুদ তাকুয়া, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের আমির হোসেন, কুমিল্লা তিতাসের নাহিদ, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার সালেহ আহমাদ, বরিশাল কোতোয়ালি থানার বাকী আব্দুস সালাম (নিরব), মাদারীপুর জেলা ও থানার ইয়াছিন বেপারী, পটুয়াখালী সদর থানার মো. মিরাজ সিকদার, পটুয়াখালী মহিপুরের ওবায়দুল্লাহ সাকিব, কুমিল্লা নাঙ্গলকোটের জহিরুল ইসলাম, মাগুরা মোহাম্মদপুরের আবু হুবায়বা, মাদারীপুর রাজৈবের আবুল বাশার মৃধা, নারায়ণগঞ্জের আকতার সরদার, নারায়ণগঞ্জ বন্দরের রিয়াসাদ রাইয়ান, পটুয়াখালী দশমিনার হোসাইন আহমাদ ও আবু হুরাইরা, টাঙ্গাইল ধনবাড়ীর তানজিল রহমান, নেত্রকোনা কলমকান্দার মো. আল মামুন, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির নিজাম উদ্দিন হিরন, কুমিল্লা দক্ষিণ থানার আব্দুর রাজ্জাক খাঁন, বরগুনা বেতাগীর সোহেল মোল্লা, পটুয়ালালীর মির্জাগঞ্জের নুর মোহাম্মদ জুয়েল, ঢাকা কামরাঙ্গীচর থানার রায়হান, নারায়াণগঞ্জ বন্দর থানার আল আমিন সরদার, একই এলাকার মো. জহিরুল ইসলাম, সিলেট এয়ারপোর্ট এলাকার মো. তাওয়াবুর রহমান ও সুনামগঞ্জের দিরাই থানার লোকমান।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন দাবি করেন, তথাকথিত হিজরতের নামে তরুণরা বাড়ি থেকে বের হয়েছেন বা নিজ ইচ্ছায় নিরুদ্দেশ হয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিরা সবাই দেড়মাস থেকে দুই বছরের অধিক সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছেন। ইতোপূর্বে আমরা ৩৮ জন এবং আজ আরও ১৭ জনসহ মোট ৫৫ জনের তালিকা প্রকাশ করেছি। অধিকাংশের পরিবারই জানে, তারা তাবলীগ বা কোনও কিছুর নামে বের হয়েছেন। অনেকের পরিবার জানে তার সন্তান বিদেশে কোনও চাকরিতে রয়েছেন। মাঝে মাঝে তারা টাকাও পাঠাচ্ছেন। কিছুদিন আগে ২০২১ সালের মার্চের শেষের দিকে সিলেটের সিদ্দিক এবং রাজ্জাক নামে দু’জন নিরুদ্দেশ হন। অনেকেই জানেন তারা আফগানিস্তানে যুদ্ধ করতে গিয়েছেন। তবে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে এবং আমরা যাদের আটক করেছি তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পেরেছি তারাও এই পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তারা এখানেই অবস্থান করছেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com