শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

পুরুষ শিকারি ইভার ফাঁদে শতাধিক পুরুষ

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
প্রতারণার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের ভাষায়, রহস্যময়ী এক নারী তানজিনা আক্তার ইভা ওরফে মেরি ওরফে মাহি। অষ্টম শ্রেণির গণ্ডি পেরোতে না পারলেও যুক্তরাজ্যের সফটওয়্যার ফার্মে চাকরি করেন বলে পরিচয় দেন। ঘোরাফেরা করেন রাজধানীর অভিজাত সব হোটেলে। ডিজিটাল মাধ্যমে তার অর্ধনগ্ন ছবিতে কুপোকাত হয়েছেন শতাধিক পুরুষ। ওইসব পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে বিভিন্ন নাইট পার্টি, স্পা সেন্টার, বারে নিয়ে অনৈতিক কাজে আকৃষ্ট করে স্বার্থ হাসিল করাই তার নেশা। ১০ বিয়ে ও তিন সন্তানের মা হয়েও নিজেকে কুমারী পরিচয়ে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, নেতা, উচ্চপদস্থ চাকরিজীবীদের থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।

অবশেষে গত ১৫ জানুয়ারি প্রতারক ইভাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ বলেন, ‘ইভাকে গ্রেপ্তারের পর অসংখ্য ভুক্তভোগী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তার অন্যান্য সহযোগীর বিষয়েও অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।’

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইভা মূলত ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলে তার আকর্ষণীয় অঙ্গভঙ্গির অর্ধনগ্ন ছবি পোস্ট করেন। পরে ওইসব অ্যাকাউন্ট থেকে টার্গেট ব্যক্তিদের বন্ধুত্বের রিকোয়েস্ট পাঠান এবং মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করেন। নিজেকে কুমারী বলে পরিচয় দিয়ে সখ্য গড়ে তোলেন। গুলশানের বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে খেতেও যান তাদের সঙ্গে। দেখা-সাক্ষাতের একপর্যায়ে টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান এবং স্ন্যাপচ্যাটের মেসেঞ্জারে ইভা তার অর্ধনগ্ন ছবি পাঠান। অশ্লীল আলাপচারিতা চালিয়ে যেতে থাকেন তাদের সঙ্গে। পরে ব্ল্যাকমেল করার জন্য ইভা ওইসব ব্যক্তির সঙ্গে অডিও, ভিডিও এবং মেসেজের কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষণ করে রাখেন। ঘনিষ্ঠতার একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন হোটেলে রাত্রিযাপন করেন এবং ব্লাকমেল করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।

বেপরোয়া ইভা : ইভার বিষয়ে ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, অষ্টম শ্রেণি পাস হয়ে নিজেকে ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল পাস বলে দাবি করেন ইভা। কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটা সফটওয়্যার ফার্মে কর্মরত বলে পরিচয় দেন। তার পারিবারিকভাবে প্রথম বিয়ে হয় ২০০৩ সালে এক প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি চাকরিজীবীর সঙ্গে। কিন্তু তার উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য ২০১০ সালে স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়। এরপর লাগামহীন জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার তিন সন্তান থাকলেও তাদের নিজের সন্তান বলে পরিচয় দেন না। প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের আগেই তিনি একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। একে একে ১০টি বিয়ে করেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে একসঙ্গে রাতযাপনের তথ্য পেয়েছে ডিবি।

ডিবি সূত্র বলছে, ইভার অপকর্মের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাসুম বিল্লাহ ওরফে রাজু উল্লাহ। রাজুকে গত ১১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে ডিবি। জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি জানতে পেরেছে, রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইভার সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের। ধীরে ধীরে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং বিভিন্ন হোটেলে রাতযাপন করেন। ইভা ও রাজু একে অন্যের সহযোগিতায় তাদের প্রতারণার ফাঁদ বিস্তৃত করেন। রাজু বিভিন্ন টার্গেট ব্যক্তির কাছে ইভাকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলে পরিচয় দেন।

ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের টিম ইনচার্জ অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) আশরাফউল্লাহ জানান, তারা মূলত ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানের বিভিন্ন হোটেলের বারে বা পার্টিতে বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে মিথ্যা পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করেন। তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করেন। একপর্যায়ে ওইসব ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তুলে ফেইসবুকে প্রচার করেন।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com