বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘ ৯ মাস পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।

বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি সকালে পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর একটি পাকিস্তানি সামরিক বিমানে করে গোপনে তাকে লন্ডনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সেদিন সকাল ৭টায় বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে প্রচারিত খবরে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বিমানযোগে লন্ডনে আসছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। ’

প্লেনটি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর বঙ্গবন্ধু ভিআইপি লাউঞ্জে এলে ব্রিটিশ বৈদেশিক দফতরের উপস্থিত কিছু কর্মকর্তা তাকে স্বাগত জানান। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে ব্রিটিশ ফরেন অফিসের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা স্যার ইয়ার মাদারল্যান্ড উপস্থিত হয়ে জানান, ব্রিটিশ সরকার বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদা দিয়েছে।

সকাল ৮টার মধ্যেই বঙ্গবন্ধুকে ব্রিটিশ সরকারের সম্মানিত অতিথি হিসেবে লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হোটেল ক্যারিজেসে নিয়ে যাওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যে ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা (পরে প্রধানমন্ত্রী) হ্যারল্ড উইলসন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যান হোটেলে।

বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনে পৌঁছান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ ছিলেন লন্ডনের বাইরে। বঙ্গবন্ধুর পৌঁছানোর কথা শুনে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী হিথ ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ছুটে আসেন। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে বঙ্গবন্ধুকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিদায়ের মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ সকল প্রথাগত প্রটোকল ভেঙে, নিজ হাতে গাড়ির দরজা খুলে বঙ্গবন্ধুকে গাড়িতে তুলে দিয়ে নজিরবিহীন সম্মান দেখান।

লন্ডন থেকে বঙ্গবন্ধু আসেন দিল্লিতে। সেখানে পালাম বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধু নামার পর তাকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিবি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধী স্বাগত জানান। দিল্লি থেকে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় আসেন।

এদিকে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জয়লাভ করলেও যার নেতৃত্বে যুদ্ধ হয় সেই নেতার জন্য জাতি অধির আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। ওই দিন বঙ্গবন্ধুকে দেখার জন্য ঢাকায় জনতার ঢল নামে। বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানাতে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) ছিল জনসমুদ্র। বিমান থেকে নেমে মাটিতে পা দিয়েই আবেগে কেঁদে ফেলেন বঙ্গবন্ধু। আবেগাপ্লুত ও কান্নাজড়িত কণ্ঠেই তিনি রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সামনে ভাষণ দেন।

ভাষণে বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই কাজে তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকার জন্য বিশ্বের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা জানান।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com