শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

শীতে টনসিলের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
শীতে ঠাণ্ডা লাগা ও ঠাণ্ডাজনিত রোগ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এ সময় অনেকের টনসিলের সমস্যা দেখা দেয়। টনসিল বাড়লে ঢোক গিলতে গেলে কষ্ট হয়। মুখ-গলা, নাক, কান দিয়ে শরীরের অভ্যন্তরে জীবাণু প্রবেশে বাধা দেয় এই টনসিল। তাই টনসিল আক্রান্ত হলে জীবাণুর প্রকোপ বাড়ে, বাড়ে অন্যান্য অসুখের ভয়ও। টনসিলের সংক্রমণকে মেডিক্যালের পরিভাষায় টনসিলাইটিস বলা হয়। টনসিলাইটিস যে শুধু শিশুদের হয়, তা নয়। এটি শিশুদের বেশি হলেও যে কোনো বয়সেই হতে পারে।

শীতে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। টনসিলের সমস্যায় তীব্র গলাব্যথা, মাথাব্যথা, খাবার খেতে কষ্ট, মুখ হাঁ করতে অসুবিধা, কানব্যথা, জ্বর, মুখ দিয়ে লালা বের হওয়া, কণ্ঠস্বর ভারি হওয়া, মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার মতো নানা লক্ষণ দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, টনসিল ফুলে যাওয়ার অনেক কারণ আছে। এখানে টনসিল ফোলার ৬টি কারণ ও টনসিলের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় উল্লেখ করা হলো।

* ভাইরাস সংক্রমণ: ভাইরাসের আক্রমণে টনসিলে সংক্রমণ বা ফোলা হতে পারে এবং এটা খুবই প্রচলিত কারণ। টনসিলের জন্য দায়ী কিছু ভাইরাস হলো- ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডিনোভাইরাস, এপস্টেইন বার (মনো) ও হার্পিস সিমপ্লেক্স। ভাইরাস সৃষ্ট টনসিলাইটিসের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হলো- জ্বর, মাথাব্যথা, সর্দি ও গলাব্যথা। এই ধরনের সংক্রমণ সাধারণত ১০ দিনের মধ্যে সেরে ওঠে। যদি মনে করেন যে ভাইরাসের আক্রমণে টনসিল ফুলে গেছে, তাহলে স্বস্তি পেতে প্রচুর পানি পান করুন, লবণ পানির গড়গড়া করুন এবং প্যারাসিটামল/আইবুপ্রোফেন সেবন করুন।

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ: ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে টনসিল ফুলে যেতে পারে ও গলাব্যথা হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে টনসিল ফোলার আরো কিছু লক্ষণ হলো- খাবার গিলতে অসুবিধা, মুখে দুর্গন্ধ ও মুখ হাঁ করতে অসুবিধা। চিকিৎসা না করলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ জনিত টনসিলাইটিস আরো জটিল সংক্রমণে রূপ নিতে পারে এবং গলায় পুঁজ জমতে পারে। ১০ দিনের মধ্যে উপসর্গ দূর না হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

* টনসিলে পাথর: টনসিলে পাথর হলে টনসিল ফুলে যায় এবং গলায় ভরাট অনুভব হয়। টনসিলের ফাঁকে খাদ্যকণা জমে পাথর তৈরি হয়। এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। খুব সহজেই টনসিলের পাথর অপসারণ করা যায়। চিকিৎসকদের মতে, লবণ পানিতে গড়গড়া করলে টনসিলের পাথর দূর হয়ে যায়। এরপরও পাথর লেগে থাকলে কটন সোয়াব বা টুথব্রাশের উল্টো দিক দিয়ে ঘষা দিতে পারেন।

* পাকস্থলির অ্যাসিড: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিম্নমানের খাবার থেকে পাকস্থলির অ্যাসিড গলায় এসে থাকে। সমস্যাটি অ্যাসিড রিফ্লাক্স নামে পরিচিত। এর ফলে টক ঢেকুর ওঠে ও গলা জ্বালাপোড়া করে। পাকস্থলির অ্যাসিড নিয়মিত গলায় ওঠে আসলে জ্বালাপোড়ার পাশাপাশি টনসিল ফুলে যায়। আরো কিছু লক্ষণ হলো- ঘনঘন গলা পরিষ্কারের তাড়না, গিলতে সমস্যা ও কাশি। চিকিৎসকদের মতে, এক্ষেত্রে মসলাদার খাবার, কোমল পানীয়, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি একাধিক বালিশে মাথা রেখে ঘুমানো ও প্রয়োজনে এন্টাসিড সেবন করতে হবে। উচ্চ চর্বির খাবার ও রাতে দেরিতে খেলে রিফ্লাক্সের সমস্যা বেড়ে যায়।

যৌনবাহিত রোগ: সিফিলিস ও গনোরিয়া উভয়েই গলাকে আক্রান্ত করতে পারে। সিফিলিসের প্রাথমিক পর্যায়ে গলার পেছনে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে এবং সেইসঙ্গে টনসিল ফুলে যেতে পারে। অন্যদিকে গনোরিয়ার দুটি উল্লেখযোগ্য উপসর্গ হলো- মুখে ক্ষত, টনসিলে ফোলা ও গলায় জ্বালাপোড়া।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com