রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

১২বছরধরে এক লুঙ্গি নিয়ে ঈদ করছেন টেকনাফের অসহায় মনজুর

সাইফুদ্দীন আল মোবারক, টেকনাফ:

আবুল মনজুর (৬০)। বয়সের ভারে বেশ ক্লান্ত। তাঁর স্ত্রী জাহানার বেগম (৫০)। এক অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন তারা । তিনি একজন ভিক্ষুক । প্রায় ৫০ বছরধরে সে ভিক্ষা করে চলছে । এক লুঙ্গি নিয়ে ঈদ করছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে । নতুন কাপড় পড়ে ঈদ করার মতো এখনো তৌফিক হয়নি তাঁর ।

নজর পড়েনি কোনো সরকারি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার । বরিবার (২ মে) রাত ৮টারদিকে হঠাৎ দেশ রূপান্তর প্রতিবেদকের নিকট এমন গেলে এই অসহায় ভিক্ষুক লোকটিকে দেশ রূপান্তর পরিবারের পক্ষথেকে নতুন লুঙ্গি,পাঞ্জাবিসহ ঈদের বাজার করে দেয়া হয়েছে । এসময় তারা অসহায়ত্বের কথাগুলি তুলে ধরেন প্রতিবেদকের নিকট । প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে ভিক্ষা করেই চলছে আবুল মনজুর ও জাহানার সংসার। তাদের রয়েছে পাঁচ জন ছেলে মেয়ে । সন্তানদের মধ্যে দুই ছেলে তিন মেয়ে । ছেলেরা বিয়ে করে নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত, মা বাবার খবর রাখে না । অভাবের সংসার হওয়ায় তারাই তো লড়ছেন দুমুঠো ভাতের জন্য। ভবঘুরে হয়ে ছুটছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

তিন মেয়ের মধ্যে দুইজনের বিয়ে হয়েছে । মা বাবার সাথে আছেন এক মেয়ে । তার বিয়ে নিয়েও খুবই চিন্তিত অসহায় ভিক্ষুক আবুল মনজুরের পরিবার। সরকারের এতো বরাদ্দ এতো উন্নয়নের কোনো কিছুই তাদের দরজায় পৌঁছেনি । সারা দেশে গরীব অসহায়দের দেয়া হয়েছে মুজিববর্ষের ঘর। কিন্তু এই অভাগা দম্পতি পায়নি সেই ঘরও । এখন ভিক্ষুক আবুল আবুল মনজুর বৃদ্দ বয়সে কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন ।
আবুল মনজুর দেশ রূপান্তরকে জানান,সে একজন অসহায় গরীব মানুষ ।প্রায় ৫০ বছর ধরে ভিক্ষার থলে নিয়ে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করে চলেছে। পাচ্ছে না কোনো সরকারি সহযোগিতা । এখন বুড়ো হয়ে গেছে । আগের মতো ভিক্ষা করতে পারে না । ভিক্ষা করে দিনে ৪-৫ কেজি চাল পেলে তা বিক্রি করে কোনো মতে চালিয়ে যাচ্ছে টানাপুড়নের সংসার । তার অবিবাহিত মেয়েটাকে নিয়েও বেশ চিন্তিত । বুড়ো বয়সে যদি সরকারের পক্ষ থেকে একটি ঘর বা কোনো বড় সহযোগিতা পেলে হইতো মেয়েটার বিয়ের ব্যবস্থা করে কোনো মতে বাকি জীবন শেষ হতো ।

অসহায় আবুল মসজুরের স্ত্রী জাহানার বেগম বলেন, আমরা স্বামী ন্ত্রী দুজনই এখন মৃত্যুর পথে । সরকার আমাদের চোখ তুলে দেখলে হইতো কপাল খোলবে । আর মেয়েটার বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারবো । সরকারের কাছে তিনি একটি ঘর ও সহযোগিতার আকুল আবেদন জানান । রমজানে সাহরী কী দিয়ে খেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন , ভিক্ষা করে চলি আমাদের বড় মাছ মাংস খাওয়ার তো তৌফিক নেই,শুঁকটি মাছ আর শাক সবজি খেয়েই সাহরী করি । আজকে কী দিয়ে সাহরী খেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মুচকি হেসে জাহানার বলেন, আগের কেনা ছোট ছোট কিছু শুঁটকি ছিল সেগুলো রান্না করেছি,তা দিয়ে আল্লাহ খাওয়াইছে ।

ইফতারের কথা জানতে চাইলে বলেন,চিড়া মুড়ি বা মাঝেমধ্যে ছোলা দিয়ে ইফতার করি । ঠান্ডা জাতীয় বা ফলফ্রুট কিছু খান না এমন প্রশ্নের জবাবে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন আমাদের কি ঠান্ডা বা ফলফ্রুট কিছু কিনে খাওয়ার টাকা আছে ?

প্রতিবেশি কয়েকজন ব্যক্তি জানান, রোগ-শোক,খিদা, দারিদ্র্যতা,অপুষ্টি জনিত রোগে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে বিভিন্ন প্রান্তে ভিক্ষার থলে নিয়ে ঘুরতেন এই মনজুর । তার দুই ছেলেও নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত, রাখেনা বাবা মায়ের খবর । অবিবাহিত এক মেয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজন ও এক মেয়ের নাতনী নিয়ে অনেক কষ্টে চলছে তাদের জীবন। সরকারি কোনো সহযোগিতা পেলে হইতো ঘুরে দাঁড়াবার সাহস পেতো এই দম্পতি ।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়সার খসরু মুঠোফোনে জানান,প্রকৃত অর্থে অসহায় গরীব হয়ে থাকলে উপজেলা প্রশাসন দ্রæত ব্যবস্থা নিবেন । একটি ঘরের ব্যবস্থাও করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি ।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020
Design & Developed BY jmitsolution.com